Wednesday, October 30, 2013

রাজা চন্দ্র ..............................মোঃ নুরুন্নাবী

অনেক অনেক আগে সূর্য রাজ্য নামে একটা রাজ্য ছিল । রাজার নাম ছিল সূর্য নারায়ণ । রাজার ১৫ বছর পরে প্রথম সন্তান জন্মগ্রহন করে তার নাম রাখে চন্দ্র সেই সঙ্গে রাজ্যের নাম পরিবর্তন করে রাখেন চন্দ্র রাজ্য । চন্দ্রের বয়েস যখন ১৬ বছর তখন রাজা মারা যায় জার ফলে রাজ্যের নতুন রাজা হয় চন্দ্র । রাজা হবার কয়েক দিনের মধ্যে তার চাচা তাকে হত্যা করে রাজা হবার চেষ্টা করে কিন্তু সেনাপতির বিশ্বস্ততার কারনে সেটি ঘটে নি । রাজা চন্দ্র তলোয়ার চালনায় ছিলেন তৎকালীন সময়ে তার মত যোদ্ধা ছিল না । রাজা চন্দ্র প্রথম ২১ বছর বয়েসে মিজরাম রাজ্য জয় করেন একরকম বিনা বাধায় তার কৌশল ও বুদ্ধি মত্তার কারনে । সেই রাজ্যের রাজকন্যাকে বিয়ে করেন রাজা চন্দ্র । এই রাজ্য জয়ের মাধ্যমে তার রাজ্য জয়ের শুভ সূচনা ঘটে । এরপর তিনি ১০ টি রাজ্য জয় করেন সাথে সেই রাজ্যের রাজ কন্যাকে বিয়ে করেন । নতুন রাজকন্যা বিয়ে করার সাথে সাথে আগের রানীর সাথে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটান । কয়েক দিনের মধ্যে তিনি নতুন ও সমৃদ্ধ রাজ্য কাশ্মীর আক্রমণ করেন । এখানেও তিনি জয়ই হন । তার রীতি অনুযায়ী কাশ্মীরের রাজকন্যা কে বিয়ে করতে চান কিন্তু কাশ্মীরের রাজকন্যা সুলতানা রাজিয়া এতে অমত করেন কারন তিনি একজন মুসলিম কিন্তু রাজা হিন্দু । কিন্তু রাজা চন্দ্র সুলতানা রাজিয়ার রূপ দেখে তিনি এত মুগ্ধ হয়েছেন যে তিনি যে কোন মুললে তাকে বিয়ে করবেন। এক প্রকার জোর করেই তিনি রাজিয়াকে বিয়ে করেন । তাকে তার রাজপ্রাসাদে নিয়ে আসেন ও আগের স্ত্রীকে ত্যাগ করেন । রাজা চন্দ্র এবার নিজের রাজ্যের উন্নয়ন ও প্রজাদের দিকে মন যোগী হলেন কারন এতদিন তিনি সুধু রাজ্য জয়ের জন্য চেষ্টা করেছেন নিজের রাজ্যের দিকে তাকানোর সময় পাননি । সুলতানা রাজিয়া মুসলিম হওয়ায় সে প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পরতেন কিন্তু রাজা চন্দ্র তাকে কখন এসব কাজ করতে বাধা দেননি আবার নিজের ধর্ম থেকে সরে আসেন নি । সুলতানা রাজিয়া স্বামীর যত স্বাদ মেটানর চেষ্টা করতেন কখনও স্বামীর অবাধ্য হতেন না । যেহেতু রাজা চন্দ্র অনেকদিন রাজ্যের দিকে নজর রাখেন নি তাই তার কর্মচারী গণ তার মত বিভিন্ন রাজ্য থেকে সুন্দরী মেয়ে জোর করে ধরে এনে বিয়ে করত ও ইচ্ছা মত ফেলে দিত । সুলতানা রাজিয়া এটা জানার রাজা চন্দ্রকে বলেন । রাজা চন্দ্র সবার শাস্তির ব্যবস্থা করেন ও এটা বন্ধ করেন ।

প্রায় বছর খানেক পরে রাজা চন্দ্র গুরাত রাজ্য জয়ের জন্য বের হন কিন্তু সুলতানা রাজিয়া তার সাথে যেতে চান এবং বলেন ,"আমি আপনার সঙ্গে যেতে চাই, জাহাপানা ।"
রাজা বললেন ,"বেগম , আপনি জানেন যুদ্ধের সময় আমি কখন নারী সঙ্গে নেই না এটা আমাকে অন্যমনস্ক করে দেয় । আবার যুদ্ধের সময় আমার অনেক কিছুই হতে পারে তখন আপনাকে কে দেকবে । আমি আপনাকে কোন বিপদে ফেলতে পারবনা ।"
"জাহাপানা, যেদিন থেকে আমি আপনার স্ত্রী তখন থেকে আপনার ভাল মন্দ দেখার দায়িত্ব আমি নিয়েছি । আপনার সমস্যা হয় এমন কিছু আমি করবনা কিন্তু আমি আপনাকে ছেরে থাকতে পারবনা । আর আপনি সাথে থাকলে আমি যেকোনো কিছুর জন্য প্রস্তুত আছি ।"
"আচ্ছা ঠিক আছে ।"
রাজের সাথে রানী যুদ্ধের ময়দানে গেলেন এবং সেই রাজ্য জয় করলেন । রাজা চন্দ্রের অভ্যাস অনুযায়ী নতুন রাজ্যের রাজকন্যাকে বিয়ে করার চিন্তা করলেন কিন্তু সুলতানা রাজিয়া কে দেখার পর রাজকন্যাকে সাধারন একজন মেয়ের মত মনে হয় । রাজা চন্দ্র দ্বিধায় পরে গেলেন । সুলতানা রাজিয়া রাজাকে চিন্তিত দেখে বললেন ," আপনার চিন্তার কিছু নাই আমি আপনার বিয়েতে বাধা দিবনা । আপনি নিশ্চিন্তে রাজকন্যাকে বিয়ে করতে পারেন । চলুন ঘুমাতে যাই ।"
রাজা চন্দ্র সুলতানার সাথে কাফেলায় ফিরে গেলেন । সকালে উঠে রাজা চন্দ্র তার বাহিনী নিয়ে ফিরে আসলেন তার রাজ্যে । সাথে একটা সাজান কাফেলা । রাজ্যের সবাই এসেছে নতুন রানী দেখার জন্য । রানী বের হলেন কিন্তু নতুন নয় আগের রানী ।


চন্দ্র রাজ্যে এক জায়গায় বিদ্রোহের সংগঠনের একটা সম্ভাবনা দেখা দেয় রাজার গুপ্তচর এই সংবাদ নিয়ে আসে । রাজা চন্দ্র অত্যন্ত ক্ষিপ্ত হয়ে যান এবং সেই স্থানে যাওয়ার জন্য রওনা হন সাথে তার বেগম । রাজা চন্দ্র সেখানে গিয়ে তার দুর্গে আশ্রয় নেন । তিনি এতটা ক্ষিপ্ত হয়েছিলেন যে তিনি সব বিদ্রোহদের হত্যার নির্দেশ দেন কিন্তু রানী তাকে বিদ্রোহীদের সাথে সরাসরি কথা বলতে বলেন । তিনি  তাই সব বিদ্রোহীদের তার সামনে হাজির করতে বলেন । সবার সাথে কথা বলে তিনি জানতে পারেন এখানে ছয় মাস ফসল হয় না পানি না থাকার কারনে আর তাদের খাবার পানির খুব সমস্যা তাই তারা বিদ্রোহ করে নিজেরাই নিজেদের খাল খনন করবে । রাজা চন্দ্র খাল খননের নির্দেশ দেন । যার সেখানকার জমির পানির সমস্যা মিটে আর ১০০ কুপ খননের নির্দেশ দেন জাতে তাদের পানির সমস্যা মিটে যায় ।

রাজা চন্দ্র আরও বেশি রাজ্যের দিকে মনোনিবেশ করেন । রাজ্যের মানুষের সুখ দুঃখের খোঁজ খবর নেন । তার এসব পরিবর্তন এসেছে তার সন্তান আগমনের খবর শুনে । সুলতানা রাজিয়ার নিয়মিতি পরিচর্যা করছেন । সুলতানা রাজিয়ার সাথের বিয়ের প্রথম থেকে রাজা চন্দ্র কে মুসলিম হওয়ার কথা বলছেন । অবশেষে রাজা চন্দ্র রাজী হয়েছেন । রাজা চন্দ্র সুলতানা রাজিয়ার মাধ্যমে মুসলমান হন । সেই রাতে খবর আসে গুরাত রাজ্যের রাজ পরিবার বর্গ সৈন্য সংগ্রহ করে বিদ্রোহ করে রাজা চন্দ্রের সৈন্যদের বিতাড়িত করেছে । রাজা চন্দ্র সন্তান সম্ভাবা রানী রানী রেখে প্রথম বারের মত যুদ্ধে গেলেন । গুরাত রাজ্যের সৈন্যদের হটিয়ে আবার রাজ্য দখল করেন রাজা চন্দ্র । রাজা চন্দ্র যখন রাজপ্রাসাদে ফেরার সময় গুরাত রাজ্যের গুপ্তচর তাকে পেছন থেকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে । আর একই সময় রানী সুলতানা রাজিয়া একটি ছেলে সন্তান প্রসব করেন । যে ছেলের নাম রাখা হয় সুলেমান চন্দ্র । যে পিতার মত তলয়ার চালনায় দক্ষ হয়ছে এবং ১০ বছর বয়েসে সিংহাসনে প্রথমেই গুরত রাজ্য দখল করেন ।

উৎসর্গ ঃ
আমাদের একটা গ্রুপ আছে যার নাম আমরা বিশ যদিও এর সদস্য সংখ্যা ৬ জন । সেই গ্রুপের সকল সদস্যদের জন্য আমার এ গল্প ।

Tuesday, October 29, 2013

USA Stock Trading

If you think about International Stock Trading, USA stock exchanges will come first. Stock trading is more safe than FOREX trading. There are many blogs,forums,tutorial websites online to learn about USA stock trading. But if you haven't enough time to analyse market,I can recommend you a website. The owner of the website is too industrious to analyse USA stocks. You can check the offer of him.


নীরা ও জীরো আওয়ার– সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

এখন অসুখ নেই, এখন অসুখ থেকে সেরে উঠে
পরবর্তী অসুখের জন্য বসে থাকা। এখন মাথার কাছে
জানলা নেই, বুক ভরা দুই জানলা, শুধু শুকনো চোখ
দেয়ালে বিশ্রাম করে, কপালে জলপট্টির মতো
ঠাণ্ডা হাত দূরে সরে গেছে, আজ এই বিষম সকালবেলা
আমার উত্থান নেই, আমি শুয়ে থাকি, সাড়ে দশটা বেজে যায়।

প্রবন্ধ ও রম্যরচনা, অনুবাদ, পাঁচ বছর আগের
শুরু করা উপন্যাস, সংবাদপত্রের জন্য জল-মেশানো
গদ্য থেকে আজ এই সাড়ে দশটায় আমি সব ভেঙেচুরে
উঠে দাঁড়াতে চাই–অন্ধ চোখ, ছোট চুল–ইস্ত্রিকরা পোশাক ও
হাতের শৃঙ্খল ছিঁড়ে ফেলে আমি এখন তোমার
বাড়ির সামনে, নীরা থুক্‌ করে মাটিতে থুতু ছিটিয়ে‌
বলি : এই প্রাসাদ একদিন আমি ভেঙে ফেলবো! এই প্রাসাদে
এক ভারতবর্ষব্যাপী অন্যায়। এখান থেকে পুনরায় রাজতন্ত্রের
উৎস। আমি
ব্রীজের নিচে বসে গম্ভীর আওয়াজ শুনেছি, একদিন
আমূলভাবে উপড়ে নিতে হবে অপবিত্র সফলতা।

কবিতায় ছোট দুঃখ, ফিরে গিয়ে দেখেছি বহুবার
আমার নতুন কবিতা এই রকম ভাবে শুরু হয় :
নীরা, তোমায় একটি রঙিন
সাবান উপহার
দিয়েছি শেষবার;
আমার সাবান ঘুরবে তোমার সারা দেশে।
বুক পেরিয়ে নাভির কাছে মায়া স্নেহে
আদর করবে, রহস্যময় হাসির শব্দে
ক্ষয়ে যাবে, বলবে তোমার শরীর যেন
অমর না হয়…

অসহ্য! কলম ছুঁড়ে বেরিয়ে আমি বহুদূর সমুদ্রে
চলে যাই, অন্ধকারে স্নান করি হাঙর-শিশুদের সঙ্গে
ফিরে এসে ঘুম চোখ, টেবিলের ওপাশে দুই বালিকার
মতো নারী, আমি নীল-লোভী তাতার বা কালো ঈশ্বর-খোঁজা
নিগ্রোদের মতো অভিমান করি, অভিমানের স্পষ্ট
শব্দ, আমার চা-মেশানো ভদ্রতা হলুদ হয়!

এখন, আমি বন্ধুর সঙ্গে সাহাবাবুদের দোকানে, এখন
বন্ধুর শরীরে ইঞ্জেকশন ফুঁড়লে আমার কষ্ট, এখন
আমি প্রবীণ কবির সুন্দর মুখ থেকে লোমশ ভ্রুকুটি
জানু পেতে ভিক্ষা করি, আমার ক্রোধ ও হাহাকার ঘরের
সিলিং ছুঁয়ে আবার মাটিতে ফিরে আসে, এখন সাহেব বাড়ীর
পার্টিতে আমি ফরিদপুরের ছেলে, ভালো পোষাক পরার লোভ
সমেত কাদা মাখা পায়ে কুৎসিত শ্বেতাঙ্গিনীকে দু’পাটি
দাঁত খুলে আমার আলজিভ দেখাই, এখানে কেউ আমার
নিম্নশরীরের যন্ত্রনার কথা জানে না। ডিনারের আগে
১৪ মিনিটের ছবিতে হোয়াইট ও ম্যাকডেভিড মহাশূন্যে
উড়ে যায়, উন্মাদ! উন্মাদ! এক স্লাইস পৃথিবী দূরে,
সোনার রজ্জুতে
বাঁধা একজন ত্রিশঙ্কু। কিন্তু আমি প্রধান কবিতা
পেয়ে গেছি প্রথমেই, ৯, ৮, ৭, ৬, ৫…থেকে ক্রমশ শূন্যে
এসে স্তব্ধ অসময়, উলটোদিকে ফিরে গিয়ে এই সেই মহাশূন্য,
সহস্র সূর্যের বিস্ফোরণের সামনে দাঁড়িয়ে ওপেনহাইমার
প্রথম এই বিপরীত অঙ্ক গুনেছিল ভগবৎ গীতা আউড়িয়ে?
কেউ শূন্যে ওঠে কেউ শূন্যে নামে, এই প্রথম আমার মৃত্যু
ও অমরত্বের ভয় কেটে যায়, আমি হেসে বন্দনা করি :
ওঁ শান্তি! হে বিপরীত সাম্প্রতিক গণিতের বীজ
তুমি ধন্য, তুমি ইয়ার্কি, অজ্ঞান হবার আগে তুমি সশব্দ
অভ্যুত্থান, তুমি নেশা, তুমি নীরা, তুমিই আমার ব্যক্তিগত
পাপমুক্তি। আমি আজ পৃথিবীর উদ্ধারের যোগ্য

Thursday, September 12, 2013

ভুল .....................মোঃ নুরুন্নাবী

মতিঝিল ইত্তেফাক মোড়ের পাশে দোতলা বাসাটি শ্রুতিদের । শ্রুতির বাবা একজন সরকারী চাকরিজীবী । চাকরির সুবাদেই এই বাসাটি পেয়েছে শ্রুতির বাবা । শ্রুতিদের সংসারে লোক সংখ্যা ৩ জন কিন্তু দোতলা বাড়ীতে মোট রুম সংখ্যা ৬ টি । শ্রুতিরা থাকে নীচ তলায় । উপরের তলা ভারা দেয় তার বাবা । শুক্রবারে বাড়ীতে সদস্য সংখ্যা একজন বাড়ে সে হল শ্রুতির মামা । গ্রামের বাড়ীতে না গেলে শ্রুতিদের বাড়ীতে আসে । শ্রুতির সম বয়সী এক্তা ছেলে আসে শ্রুতির মামার গ্রামের ইস্কুলে পড়াশোনা করে  নাম মিসুক ।

মিসুক ক্লাস ৫ পর্যন্ত গ্রামে পড়াশোনা করেছে । সে ছাত্র হিসেবে খুব ভাল । ক্লাস ৫ এ বৃত্তি পেয়েছে । মামা ছেলের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তার পরিবার সহ ঢাকা চলে আসে উঠে শ্রুতিদের উপরের তলায় । শ্রুতি অ মিসুকের মধ্যে দারুণ ভাব সব সময় একসাথে খাওয়া দাওয়া থেকে শুরু করে রাতে ঘুমনোর আগ পর্যন্ত । শ্রুতি অ মিসুক একই ইস্কুলে ভর্তি হয় তাদের পরীক্ষার ফলাফলে কেউ প্রথম কেউ দ্বিতীয় হয় । শ্রুতিদের বাসার সামনে একটু ছোট জায়গা আসে যেখানে একটি কৃষ্ণচূড়া গাছ আছে । ফেব্রুয়ারি মাসে এ গাছটা ফুলে ফুলে ভরে উঠে দেখতে অসম্ভব সুন্দর লাগে । শ্রুতির মা মুরগী পালে বাড়ীর খালি জায়গায় । শ্রুতির প্রতিদিনের অভ্যাস সকালে উঠেই মুরগী দিম পেরেছে কি না । মিসুক আসার পর মিশুকও ওর সাথে প্রতিযোগিতা করে সকালে উঠে দিম খোঁজার জন্য । একদিন মিসুক মুরগী ডিম পেরেছে কি না দেখতে গিয়ে পচা দুটো ডিম রেখে আসে । শ্রুতি যথারীতি ডিম নিয়ে এসে ডিম ভাজার জন্য ফাটিয়েছে তখনি ডিমের পচা গন্ধে ঘর আল হয়ে গেছে । শ্রুতি তখনি উপর তলায় গিয়ে মিসুকের পিথে ৮-১০ টা কিল বসিয়ে ফিরে আসে । ওদের এসব কাণ্ড দেখে মা বাবা মামা মামি সবাই হাসা হাসি করে । একদিন কি মনে করে যেন মিসুক নিচতলায় এসেছে ঠিক তখনি শ্রুতি গোসল করে নগ্ন অবস্থায় বাইরে এসেছে । মিশুককে দেখে শ্রুতি জোরে একটা চিৎকার দিয়ে ঘরে চলে গেছে আর মিশুকও লজ্জায় উপর তলায় চলে গেছে । এরপর প্রায় সপ্তা খানেক শ্রুতি অ মিসুকের কথা বলা বন্ধ এমনকি সামনাসামনি পরলেও লজ্জায় লাল হয়ে যায় দুজনি ।

শ্রুতি ও মিসুক দুজনি এস এস ছি পরীক্ষায় এ+ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে ।  এস এস ছি পরীক্ষা পর্যন্ত তারা একই ইস্কুলে পড়েছে । এখন তাদের ভিন্ন কলেজে ভর্তি হয়েছে । মিসুক নটরডেম কলেজে আর শ্রুতি আইডিয়াল কলেজে । বাসার সবাই মিলে মাঝে মাঝে আড্ডা দেয় বাসার ছাদে । দুজনের এস এস ছি পরীক্ষার পর যে অবসর সময় ছিল বাসার প্রতিদিন না হলেও শ্রুতি অ মিসুক নিয়মিত আড্ডা দিত । এই সময়ে তাদের ভিতরকার যে বন্ধুত্ব সেটা ভালবাসার দিকে আগায় যদিও কেউ কাও কে কখনও বলেনি মুখে । শ্রুতির স্বভাবে যেমন পরিবর্তন এসেছে, পরিবর্তন এসেছে তার দেহে । মিশুকেরও তাই । শ্রুতি এখন দেখতে অনেক বেশি সুন্দর হয়েছে তার চুল হয়েছে কোমর পর্যন্ত, চিকন তার শরীরের গড়ন, মুখের দিকে তাকালে চোখ ফেরানো যায় না । মিসুক আর আগের মত লিকলিকে দেহী নয়, তার সাস্থের উন্নতি হয়েছে ,আরও বেশি বুদ্ধিমান হয়েছে । তারা মাঝে মাঝে দুজনে একসাথে তারা দেখে তখন দুজন কাছে আসতে চায় কিন্তু পারে না ।

মিসুক ঘুমিয়ে আছে দোতলায় তার নিজের ঘরে । হঠাৎ শ্রুতি আসলো তার ঘরে , শ্রুতির একা ঘুম আসছিলো না । শ্রুতি মিসুকের পাসে শুয়ে পড়ল । মিসুক শ্রুতিকে জ্বরিয়ে ধরল , শ্রুতি কোন শব্দ করল না নিঃশব্দে মিশে গেল মিসুকের বুকের সাথে । তারপর দুজন দুজনকে সমর্পণ করলো একে অন্যকে । তারা যেন এখন এক আত্মা, এক দেহ । হঠাৎ চোখ মেলল সে ভাবল সে স্বপ্ন দেখেছে । মিসুক পাসে ফিরে তাকাল দেখল শ্রুতি তার পাসে শুয়ে আছে । মিসুক নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছে না এটা স্বপ্ন না সত্যি । সে নিজের গায়ে চিমটি কাটল সে বাথ্যাও পেল মানে স সত্যি । এরপর সে শ্রুতিকে ডাকল শ্রুতি ঘুম থেকে জেগে সেও অবাক হল । কিন্তু কিছু না বলে কাপড় ঠিক করে নিচে চলে গেল । এ ঘটনার পর শ্রুতি ও মিসুকের মধ্যেকার সম্পর্ক আরও বেশি গভীর হল।

মিশুককে ছাদে নিয়ে এসেছে শ্রুতি এক্তা কথা বলার জন্য । কথাটা শ্রুতি বলতে গিয়ে কেন যেন বলতে পারছিলো না । অবশেষে বলল," সে সন্তান সম্ভাবা ।" কথাটা শোনার পর মিসুকের মাথার উপর যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়ল । মুহূর্তের মধ্যে তার মাথা খালি হয়ে গেল । সে দপাস করে ছাদের উপর বসে পড়ল । মিসুক ও শ্রুতি দুজনেই কেবল কলেজে উঠেছে ,এ সময় তার সন্তান শ্রুতির পেটে । এখন সে কি করবে ,সে তো মা বাবা ত দুরের কথা কাও কে বলতে পর্যন্ত পারবে না । মুসুক শ্রুতির দিকে তাকাল তার মুখটা কাল চোখের নিচে কালি পরে গেছে মনে হয় কয়েক দিন ঘুম হয় না  শ্রুতির । মিসুক এখন কি করবে সে কি গোপনে শ্রুতিকে বিয়ে করবে আর যদি বিয়েও করে তাহলেও ত সমাধান হচ্ছেনা কারন সে এখন বাবা হতে পারবে না  পারবে না শ্রুতি মা হতে করন তার কোন আয় রোজগার নাই ।সে বিয়ে করলে খাওয়াবে কি ? মিসুক ও শ্রুতির বাবা মার কেউ মেনে নিবে না । মিসুক আবার তাকায় শ্রুতির পেটের দিকে সে বুঝতে চায় শ্রুতি যে সন্তান সম্ভাবা সেটা বুঝা যায় না কিন্তু কয়েক দিন পরি তো বঝা যাবে । পাড়ার লোকে শ্রুতিকে নানা কথা বলবে এসব সহ্য করতে না পেরে হয়তো শ্রুতি গলায় দড়ি দিবে না হয় বিষ খাবে । না সে আর চিন্তা করতে পারছে না । মিসুক শ্রুতিকে চিন্তা করতে বাড়ন করে নিচে যেতে বলে । শ্রুতি চলে যায় কিন্তু হাজার মণের বোঝা যেন চাপিয়ে দিয়ে যায় ।

মিসুক ১০ হাজার টাকা যোগাড় করেছে । শ্রুতির পেটে তার অনাগত সন্তানের মৃত্যু নিস্তিত করতে । শ্রুতি ও মিসুক রিক্ত হস্তে বাড়ী ফিরল । মিসুক সেদিন সারা রাত কেঁদেছকে , কেঁদেছে শ্রুতিও । চোখের পাতা এক করতে পারেনি দুজনের কেউই ।

শ্রুতির জন্য বিভিন্ন জায়গা থেকে বিয়ের প্রস্তাব আসছে । মিসুক প্রতিদিনি তাই দেখছে তার কিছু করার নেই । মিসুক ও শ্রুতি আগের মত ছাদে আড্ডা দেয় না কথা বলে খুব কম। তারা যেন দিন দিন দূরে সরে যাচ্ছে । সেই দূরত্ব আরও বাড়িয়ে দিল শ্রুতির বিয়ে হয়ে । শ্রুতি তার বিয়েতে অমত করে নি কারন তার সাথে মিসুকের বিয়ে কোন ভাবেই সম্ভব নয় । সে এও জানে মিসুক ছাড়া অন্য কওকে সে পরিপূর্ণ ভাবে ভালবাসতে পারবে না । বিয়ের কয়েক দিন আগে থেকে মিসুকের সাথে শ্রুতির কথাত দুরের কথা দেখা পর্যন্ত হয় নি । বিয়ের আগের দিন রাতে শ্রুতি ছাদে যায় সেখানেই দেখা হয় মিসুকের সাথে। সে মিসুকের কাঁধে, মিসুক ফিরে তাকায় । মিসুকের চোখ ফোলা এখন চোখের কোনায় জল আছে । শ্রুতি মিশুককে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে থাকে , কাঁদে মিশুকও । অনেক্ষন পর কান্না থামে শ্রুতি মিসুকের ঠোঁটে একটা চুম্বন একে চলে যায় ।

শ্রুতির সাথে বছর দশেকের উপর দেখা নেই । মিসুক চায় না শ্রুতির সাথে দেখা হোক । মিসুক শুনেছে শ্রুতির স্বামী খুব ভাল মানুষ যদিও শ্রুতির কোন সন্তান হয়নি তবুও স্বামী তাকে ত্যাগ করে নি বরং শ্রুতিকে এ কথা কখনও মনে করতে দেয় না । শ্রুতির স্বামী তাকে অনেক বার যেতে বলেছে বাড়ীতে কিন্তু সে কখনও জায় নি । মিসুক এখন প্রথম স্রেনির সরকারি কর্মকর্তা । তার বিয়ের বয়েস পার হয়ে গেছে অনেক আগেই মা বাবা বিয়ের কথা বলতে বলতে অবশেষে কিছু করতে না পেরে তারা চলে গেছে গ্রামের বাড়ীতে । মিসুকের অফিস বাদে অন্য সময় সে কমলাপুরের পথ শিশুদের শিক্ষা দান করে । সে তার বেতনের টাকা দিয়ে কাপড় চোপর কিনে দেয় তাদের । এদের মধ্যে একটা মেয়েকে তার খুব ভাল লাগে যার বয়স ৯ বছর । সে এই মেয়েকে দেখে আর ভাবে তার সন্তানটি হয়ত এর চেয়ে বড় হত । মিসুক এসব পথ শিশুদের মাঝে খুঁজে পায় তার সন্তানের ছায়া ।

উৎসর্গ ঃ
আমার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সবচেয়ে প্রিয় শিক্ষিকা সপ্না ।

Wednesday, September 11, 2013

পরিপূরক ........................মোঃ নুরুন্নাবী

বাড়িতে হাজার হাজার রঙিন বাতি জ্বলছে ও নিভছে । বাড়িটা লোকে লোকারন্ন , আজ শুভর বিয়ে ।মেয়েকে শুভ এখন দেখেনি । বর্তমান সময়ে এরকম দেখা না গেলেও শুভ একটু আলাদা । শুভ ও ওর স্ত্রী শাহানা বহন কারি গাড়ি বাড়িতে প্রবেশ করতেই সবার ভিতর চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছ , সবাই বউ দেখার জন্য অস্থির হয়ে গেসে। শুভর স্ত্রী শাহানাকে শুভর রুমে নিয়ে যাওয়া হল । সবারই শাহানাকে দেখতে আসছে, সবার দেখা শেষ করতে করতে রাত ১ টা বেজে গেল । শুভ ঘরে প্রবেশ করল শাহানা তার ভারি গহনা অ শাড়ি কাপড় ছেঁড়ে হাত মুখ ধুয়ে আসল। যেহেতু শুভ ও শাহানা কেউ কাওকে দেখেনি তাই তাদের পরিচয় ও কথা বলতে বলতে কখন যে ঘুমিয়ে গেসে জানে না।
সকাল ৬ টায় শুভ ২ কাপ কফি মগ নিয়ে রুমে প্রবেশ করল । শাহানাকে ঘুম থেকে জাগালো শুভ , শাহানা হাত মুখ ধুয়ে আসলে শাহানার হাতে কফি মগ দেয় শুভ । কফি মগ দেখেই অবাক হয় শাহানা কারন কফির উপরের অংশে সুন্দর পাতা আঁকা ও কি সুন্দর সুগন্ধ বের হচ্ছে। দুজনে কফি খেয়ে নিচে নেমে সবার সাথে নাস্তা করতে বসল । আত্মীয় স্বজন সবার সাথে কথা অ পরিচয় হতে হতে সাড়া দিন চলে গেল শাহানার ।
রাত ১২ টা শুভ ঘুম থেকে উঠে শাহানাকে জাগালো । শাহানা শুভকে বলল,"কি বাপার!"
শুভ বলল," তাড়াতাড়ি তৈরি হও আমরা বাইরে যাবো ।"
" বাইরে কথায়?"
"এত কথা না বলে তৈরি হও আমি গাড়ি বের করছি। "
শাহানা সবুজ রঙের টাঙ্গাইলের তাতের শাড়ি পড়ে নিচে নামল। শাহানাকে দেখতে অসম্ভব রকম সুন্দর লাগছে কিছুক্ষণ শুভ শাহানার দিকে তাকিয়ে রইল এতে শাহানা লজ্জায় লাল হয়ে গেল । শুভ গাড়ীর দরজা খুলে দিলো । গাড়ি চলছে অজানা গন্তবে ।
গাড়ীর কাচ দুটো নামানো বাইরে থেকে হিহি করে বাতাস ডুকছে । ঢাকার রাতের শহর শুভ অনেকবারই দেখেছে কিন্তু আজ যেন অন্যরকম লাগছে । আসে পাসের সব কিছুই ভাল লাগছে । রাতের ঢাকা থাকে নিরব মাঝে মাঝে মালবাহী ট্রাকের শব্দে সেই নীরবতা ভাঙ্গে । শুভদের গাড়ি ঢাকা পার হয়ে আশুলিয়ার দিকে যাচ্ছে । শাহানা গাড়ীর জানালা দিয়ে মাথা বের করে বাইরের দৃশ্য দেখছে । বাইরের বাতাস শাহানার পৃথিবীর সবচেয়ে সুমিষ্ট বাতাস মনে হচ্ছে । শুভ আশুলিয়া এসে গাড়ী থামাল । দুই পাশে থই থই পানি এখন শরৎকাল হওয়ায় পানি খুব পরিষ্কার লাগছে মনে হচ্ছে উপর থেকে নিচ পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে । শুভ ও শাহানা রাস্তার পাসে ঘাসের উপর বসল । তাদের কাছে ঘাসকে ঘাস মনে হচ্ছিলনা মনে হচ্ছিল নরম কার্পেট । শুভ শাহানার একটা হাত নিজের হাতের উপর রেখে শাহানার দিকে তাকাল চাঁদের আলোতে যেন শাহানার মুখ জ্বলজ্বল করছিলো । শুভ মনেমনে ভাবে শাহানাকে না দেখে বিয়ে করাটা সবচেয়ে ভাল হয়েছে , করণ সে শাহানাকে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত নতুন ভাবে আবিস্কার করবে বারবার তাকে নতুন মনে হবে পুরনো হওয়ার আগেই হয়ত ইহলোক ত্যাগ করবে ।
শাহানার চোখে মুখে হাসি ফুটে উঠেছে তার কাছে মনে হচ্ছে জীবনের সবচেয়ে সুন্দর সময় পার করছে । শাহানা শুভর ঘারে মাথা রেখে আকাশ দেখছে । আজ মনে হয় তাদের জন্যই আকাশটা এত সুন্দর করে সেজেছে । আকাশে বিন্দু মাত্র মেঘ নেই সেই মেঘহীন আকাশের বুকে এক ফালি চাঁদ আর বেশি ভাল লাগছে । ফজরের আজানের সুমধুর ধ্বনি তাদের কানে আসছে । আর কিছুক্ষণ পর সকাল হবে শুভ ও শাহানা বাড়ী ফিরে আসার জন্য রওনা দিলো ।

বাবা মা  ও দাদু আজ গ্রামের বাড়ী চলে যাচ্ছে শুভর। বাড়ী পুরো ফাঁকা হয়ে গেল । শাহানা একজন এমবিবিএস ডাঃ আর শুভ রিয়েল এস্টেট কোম্পানির মালিক । শুরু হল তাদের বাস্ত জীবন তারা বাস্ত থাকলেও নিজেদের জন্য নিদিষ্ট সময় কখন কাওকে দিত না । শুভ সেই বিয়ের প্রথম দিন শাহানার আগে উঠতে পেরেছিল । ঘুম ভাংগার সাথে সাথে শাহানা শুওর জন্য এক কাপ কফি দেয় আর শুভ দ্রুত গিয়ে শাহানার জন্য কফি বানিয়ে আনে । দুজনে কফি খেয়ে নাস্তা করে যার যার কর্মক্ষেত্রে যায় । প্রতিদিনই এভাবে কাটে তাদের কিন্তু শুক্রবার একটু আলাদা । সাধারণত রান্নার দায়িত্ব থাকে শাহানার উপর কিন্তু এই দিন শুভ বিভিন্ন মজার খাবার তৈরি করে যা সে শিখেছে তার মায়ের কাছ থেকে । প্রতিটা শুক্রবারই তাদের জন্য ঈদের মত ।

শাহানা ও শুভ প্রায়ই সুযোগ পেলে গ্রামে বেড়াতে যায় । গ্রামের বাড়ীতে শুভদের আধা পাকা দুটি ঘর আছে একটি শুভর বাবা মার অন্যটি শুভর । শুভ ও শাহানার ঘরটা সুন্দর করে সাজানো ঘরের এক কোণায় থরে থরে সাজানো বুক সেলফ অন্য পাসে একটা খাট পাসে একটা পড়ার টেবিল । শুভর মাছ ধরার প্রচণ্ড নেশা এজন্য তার ঘরে কয়েক ডজন মাছ ধরার সিপ আছে । শুভর রাত্রে চাঁদ দেখার খুব শখ তাই সে ঘরের চালের একটা অংশ কাচ বিয়ে তৈরি করেছে যাতে সে শুয়ে থেকেও চাঁদ দেখতে পারে । তাদের বাড়ীটা বেশ বড় তাদের খাবারের জন্য প্রয়োজনীয় সবজি আসে তাদের বাড়ীর আগিনা থেকে । তাদের একটা পুকুর যেখানে গোসল করার জন্য শানবাঁধানো ঘাট আছে । তার বাবা পুকুরে কার্প জাতিও মাছ  ও কচ্ছপ চাষ করে । পুকুরের চার পাসে নারকেল গাছের সারি । বিকেলে বসার জন্য শুভ দুটি বেঞ্চ তৈরি করেছে । শুভ ও শাহানা বাড়ীতে গেলে দুজনে সিপ দিয়ে মাছ ধরে পুকুরে । সারারাত মাছ ধরাতে দুজনেই ভীষণ রকম আনন্দ পায় । তাদের এ রাতে মাছ ধরার কথা বাড়ীর কেউ জানতোনা । চুপিচুপি মাছ ধরে বালতিতে জিইয়ে রাখত । সকালে উঠে সবাই অবাক হত । একদিন দাদুত প্রায় ভয় পেয়ে গিয়ে ছিল তাদের দেখে । পরে দাদু বলে,"দুই নায়ক নায়িকা মিলা মাছ ধরা হচ্ছে আমাকে না জানিয়ে!"
শুভ ও শাহানা বললাম ,"ভুল হয়ে গেসে । মাফ করে দাও ।"
"যা দিলাম মাফ করে । আমি যাই ।" বলে দাদু চলে গেল ।

আজ শুভ ও শাহানার জীবনের সবচেয়ে দুঃখের দিন । গ্রামে গেলে যার কোরআন তেলাওয়াত এর শব্দে ঘুম ভাঙ্গত । যেই পছন্দ করে শাহানাকে শুভর বউ হিসেবে ঠিক করেছে সেই দাদু আজ ইহলোক ত্যাগ করেছে ।শুভ সব সময়ই বাস্তববাদী সে বিশ্বাস করে" যখন একজন মানুষের প্রয়োজন ফুরিয়ে যায় তখন সে ইহলোক ত্যাগ করে পারি জমায় না ফেরার দেশে"। কিন্তু আজকে তাকে এ চরম সত্য সান্তনা দিতে পারছেনা সে কাঁদছে অঝর ধারে কাঁদছে সাথে শাহানাও কাঁদছে। দাদু প্রায়ই বলত ,"একা কবরে থাকতে তোর দাদুর খুব কষ্ট হচ্ছে যে আমাকে ছাড়া কখনও বাপের বারি একা থাকেনি সে এখন একা শুয়ে আছে আমাকে ছাড়া "। আরও বলত মরণের পর তোর দাদির পাসে কবর দিস "। এসব কথা শুনলে শুভর খুব কষ্ট লাগতো । দাদু কত শাহানাকে নিয়ে মজা করত । একদিন বাড়ীতে গেলে দাদু বলল," শাহানা আজকে আমার সাথে গল্প করবে তুই গিয়া ঘুমা ।"
শুভ বাদ্য ছেলের মত চলে আসলো ও এসে শুয়ে পড়ল কিন্তু ঘুম আসছে না । একবার এ পাস গোড়ে আবার অন্ন পাস । শেষে দাদুর ঘরে গিয়ে শাহানাকে নিতে যায় ।দাদুত দেখে হেসেই খুন । শাহানাও বুজল তাকে ছাড়া শুভ থাকতে পারবেনা এক মুহূর্ত । এর পর থেকে আল্লাহ্‌ এর কাছে একটাই প্রার্থনা করত যাতে তাদের এক সাথে মৃত্যু হয় ।

শুভ ও শাহানার বয়স বেড়েছে মাথার কালো চুল সাদা হয়েছে ,শরীরের চামড়া কুচকে গেসে ।তারা এখন থাকে গ্রামের বাড়ীতে । তাদের দুই সন্তান এক ছেলে ও এক মেয়ে ।মেয়েটা মায়ের মত ডাঃ হয়েছে তবে মায়ের চেয়ে অনেক বড় দেশ বিদেশে যার সুনাম আর ছেলে আর্মি মেজর । ছেলে মেয়ে দুজনি খুব ব্যাস্ত কিন্তু তারা বাবা মাকে কখন ভোলে না ।ছেলে একটা ছেলে ও মেয়ের একটা মেয়ে আছে ।যখন তারা বেড়াতে আসে তখন দাদু দাদি করতে করতে অস্থির হয়ে যায় ।তারা শুভ ও শাহানার সিপ নিয়ে মাছ ধরতে যায় আর মাছ ধরতে পারলে কি যে আনন্দিত হয় তা বলার বাইরে ।আর এটা দেখে শুভর চোখের কোণায় জল চলে আসে । সে শুধু আল্লাহ্‌র কাছে সুক্রিয়া করে ।

শুভ ও শাহানা এখন বাইরে বসে আকাশের চাঁদ দেখে আর চিন্তা কবে যেন শেষ হয়ে যায় এই চাঁদ দেখা । এখন শুভ প্রতিদিন সকালে কোরআন তেলাওয়াত করে । যখন নাতি নাতনী বাড়ীতে দুই পাসে বসে কোরআন তেলাওয়াত শোনে । এ দৃশ্য দেখে শুভর চোখে জল চলে আসে পরে দুজনকে জড়িয়ে ধরে ।

ছেলে ও মেয়ে দুজনেই এসেছে বেড়াতে সাথে ছেলের বউ ,মেয়ের জামাই ও নাতি পুতি । বাড়ীতে একটা উৎসব উৎসব ভাব সবাই মিলে অনেকদিন পর একসাথে রাতের খাবার খেলো এরপর সবাই মিলে উঠানে বসে চাঁদ দেখল ।এর পর সবাই যার ঘরে গেল ।
মাঝ রাতে শুভ ও শাহানা তাহাজ্জতের নামাজ পড়ল এর পর আবার শুয়ে পড়ল । পুব আকাশে সূর্য উঠছে আস্তে আস্তে সূর্যের তেজ বাড়ছে সাথে সাথে বাড়ীতে মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। চারপাশে কান্নার রোল পরে গেসে ছেলে মেয়ের কান্না দেখে গ্রাম বাসিও চোখের জল ধরে রাখতে পারছে না ।সবাই কাঁদছে,সবাই কাঁদছে ।


উৎসর্গ ঃ
আমি যাকে এ গল্পটা উৎসর্গ করছি জানি সে এই গল্প পড়া ত দুরের কথা জানবেও না , সে মানুষটি আমার দাদা ।

Sunday, September 8, 2013

৩০ সেকেন্ড .....................মোঃ নুরুন্নাবী

সকালে মায়ের সাথে রাগারাগি করে বের হয়েছি। মা পিছন থেকে অনেক বার নাস্তা করে যেতে বললেও না করেই বের হয়েছি। ছোট্ট একটা জিনিস নিয়ে শুধুশুধু মন খারাপ করে বের হয়েছি। মায়ের জন্য খুব কষ্ট হচ্ছে অনুতাপ হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে আজও দেড়ি হবে বাস পাচ্ছি না অনেক কষ্ট করে গেলাম কিন্তু গিয়ে শুনি প্রথম দুটি ক্লাস হবে না। মেজাজ আর খারাপ হয়ে গেলো । সময় কাটানোর জন্য ক্যান্টিনে যেতেই শোভার সাথে দেখা যাকে আমি পছন্দ করি কিন্তু বলতে পারি না। অনেক বার চেষ্টা করেও ব্যর্থ। কি আর করার দূর থেকেই দেখি। আজ কেন জানি আরেকবার চেষ্টা করতে ইচ্ছা করছে। মনের ভিতর দ্বিধা কাজ করছে। অনেকক্ষণ চিন্তা করার পর খেয়াল করলাম শোভা ক্যান্টিন বের হচ্ছে নিজের অজান্তেই ওর পিছু নিলাম। কিছুদূর যাওয়ার পর ডাক দিলাম। শোভা পিছনে তাকাল দেখল আমি এর পর সমানে এগিয়ে আসল। যখন ও সামনে এসে দাঁড়াল আমার বুকের ভিতর কেমন জানি ফাঁকা হয়ে গেলো আমি যেন একটা মূর্তি যার নিঃশ্বাস নেওয়ার ক্ষমতা নেই,নেই নড়াচড়া করার ক্ষমতা সে শুধু দাঁড়িয়ে থাকে। কয়েক মিনিট পর সম্মতি ফিরল এর মাঝে কয়েক বার ডেকে উত্তর না পেয়ে শোভা চলে গেছে। এরপর আমি ক্লাস এ গেলাম কিন্তু আমি এখনও স্বাভাবিক হচ্ছেনা স্যার পড়াচ্ছেন কিন্তু সব মাথার উপর দিয়ে যাচ্ছে। অনেক কষ্টে ক্লাস শেষ করে বের হতেই আবার শোভার সাথে দেখা। ডাক দিয়ে জিজ্ঞেস করল" কথা বললেন না কেন তখন?"
আমি অপ্রস্তুত ভাবে বল্লাম"না মানে....................."
"না মানে কি?"
আমি কেমন যেন হয়ে গেলাম বুকের ভিতর কার হার্ট বিট শুনতে পাচ্ছিলাম। অনেক কষ্টে একটু শান্ত হয়ে বল্লাম,"চল না বসি!"
"ঠিক আছে"
আমি অ শোভা নিচ তলার সিঁড়ির উপর বস্লাম। অনেক্ষন চুপ থাকার পর আমি শোভার দিকে তাকালাম দেখলাম এতো সুন্দর অ সহজ মানুষ তার দরকার। কোত্থেকে যেন অনেক সাহস আসছিল। আমি শোভাকে বল্লাম,"আমি অনেক দিন ধরে তোমাকে একটা কথা বলতে চাচ্ছি কিন্তু বলতে পারছিনা,আজ মনে হয় বলা উচিত;আমি তোমাকে ভালবাসি। তোমাকে এখনি বলতে হবে না উত্তর,তুমি চিন্তা করে জানিও।"
এক নিঃশ্বাসে কথা বলার পর দেখলাম আমি গামছি। শোভা অর ব্যাগ থেকে টিস্যু বের করে বলল" ঘাম মছেন।"
এরপর বলল "আমি রাজি।"
আমি বললাম "তোমাকে চিন্তা করে বলতে বললাম কারন আমি প্রেম করলে সে মানুস ছাড়া অন্য কাওকে বিয়ে করবনা।"
মুচকি হেসে শোভা বল্ল"কি দেবদাস হবেন!"
আর কিছুক্ষণ হেসে বলল" আমি চিন্তা করেছি তো। যে দিন থেকে আপনি আমার পিছনে সেদিন থেকে।"
আমার ভিতর কেমন যেন সুখের বন্যা বয়ে গেল। আমি সাথে সাথে ওকে চুম্বন করতে গেলাম কিন্তু ও বাধা দিলো বল্ল"আরেক দিন"
আমি ও শোভা আরও কিছুক্ষণ কথা বলে ওকে হোস্টেলে রেখে আসলাম।আমি আনন্দ নিয়ে বাসায় ফিরছি। আমি আমার মাথায় হাত দিতেই দেখলাম আমার হাত ভেজা লাগছে। হাত সামনে আনতেই দেখলাম আমার হাত রক্তে লাল হয়ে গেছে, নড়াচড়া করতে পারছিনা। আমার চারপাশে অনেক মানুষ। আমার চোখ দুটো কেমন যেন বন্ধ হয়ে আসচে, নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে যদিও কয়েক মিনিট পূর্বেও আমি বাসের উঠার জন অস্থির প্রতিযোগিতা করছিলাম। আমি আর চিন্তা করতে পারছিনা খুব বাঁচতে ইচ্ছা করছে মাকে ছরি বলতে। আমি মনে হয় আটাই শেষ নিঃশ্বাস নিলাম।

Monday, May 6, 2013

২৩১৭ বছর...............নুরুন্নাবী

এখন পৃথিবীর লোক সংখ্যা ১ কোটি। মানুষ গুলো তিনটি ভাগে বিভক্ত।  ১ম,২য় ও ৩য় শ্রেণি। ৩য় শ্রেণীর মানুষ শ্রমিক তাদের জীবন অতিবাহিত হয় কাজ করতে করতে। তারা বিয়ে করতে পারে না। তাদের জন্য প্রতিটি কাজই র্নিধারিত তারা এর ব্যতিক্রম করতে পারে না। তাদের তত্তাবদানের জন্য আসে কর্মি রোবট। তারা বিভিন্ন প্রয়োজনীয় দ্রব্য তৈরি করে যা ব্যবহার করে ২য় শ্রেণীর মানুস। মানুষ এসময় খাবারের উপর নির্ভরশীল নয়। তাদের জন্য একপ্রকার শেওলা থেকে খাবার তৈরি করা হয় যা ইনজেকশনের মাদ্যমে মানুষের শরীরে দিনে একবার পুষ করা হয়। যা সারা দিনের শক্তি যোগায়। ৩য় শ্রেণীর মানুষের মধ্যে যাদের মধ্যে বিশেষ কোন গুন খুজে পাওয়া যায় তাদের ১ম শ্রেণীর মানুষ নিয়ে যায়। যারা অধিক পরিশ্রমী তারা ২য় শ্রেণীতে যেতে পারে। ৩য় শ্রেণীর লোকজন দিনে ১৮ ঘণ্টা কাজ করে। তাদের অনেক নিয়ম মেনে চলতে হয়। সকাল ৫ টায় ঘুম থেকে উঠে মর্নিং ওয়াল্ক করে  ইনজেকশন নিতে হয় এর পর কাজে যেতে হয়। এভাবেই তাদের জীবন অতিবাহিত হয়। তারা মাসে ৪ দিন পতিতালয়ে যেতে পারে। তাদের মিলনে যদি নতুন কোন মানুষ পৃথিবীতে আসে তারাও ৩য় শ্রেণীর সদস্য হয়।

২য় শ্রেণীর লোকজন দিনে ৬-৭ ঘণ্টা কাজ করে। তাদের বিয়ে করার অধিকার আসে। তাদের বিনোদনের জন্য বিভিন্ন ব্যবস্থা আসে। আর ১ম শ্রেণীর লোকজন হল বর্তমান পৃথিবীর শাসন কর্তা। ১ম শ্রেণীর মোট লোক সংখা ২৩ জন যারা প্রতেকেই বিজ্ঞানী। ২২০০ সালে যখন পৃথিবীতে পারমানবিক অস্রের যুদ্ধ হয় তখন তারা ১৯-২৩ বছরের যুবক। এ যুদ্ধ এর ফলে পৃথিবীর জনসংখ্যার ৩ ভাগের ২ ভাগ মানুষ মারা যায়। যারা বেঁচে ছিল তাদের বেশির ভাগ মানুষ মারা যায় যুদ্ধ পরবর্তী দূষণ ও পানি শূন্যতার কারনে। ভাগ্যের জোরে যারা বেঁচে ছিল তাদের নিয়ে নতুন আক পৃথিবী ঘরে তলে তারা। আগের বিজ্ঞান অ প্রযুক্তির উন্নতির সাথে তারা নতুন নতুন প্রযুক্তি যুক্ত করে তারা মানুষকে নতুন আক পৃথিবী উপহার দেয়। পুরো পৃথিবী CRS নামে এক কম্পিউটার নিয়ন্ত্রণ করছে। তারা পূর্বের পৃথিবীর অবিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তিনটি শ্রেণীতে বিভক্ত করে পৃথিবী পরি চালনা করছে। যাতে মানুষ এক শ্রেণীতে যাওয়ার জন্য কোন অন্যের সাথে জুক্ত না হয়।

১ম শ্রেণীর লোকজন প্রতি বছর ১০ জন সুন্দরী নারী তাদের চাহিদা পুরনের জন্য ১ম ও ২য় শ্রেণীর নারীদের মধ্য থেকে বেছে নেয়। যদি কেউ সন্তান জন্ম দেয় তারা সরাসরি ২য় শ্রেণীর অন্তরভুক্ত হয় আর নারীগণ পতিতাহিসেবে ৩য় শ্রেণীর মানুষদের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়।

কিছু দিনের মধ্যে একটা যুগান্তকারী  ইনজেকশন আবিষ্কৃত হয় যা মানুষকে অমরত্ব দান করবে। কিন্তু সমস্যা হল এটা ব্যাবহারে পর সন্তান জন্ম দানের ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যাবে। ১ম শ্রেণীর লোক সংখা ধীরে ধীরে কমছে যা বর্তমান পৃথিবীর জন্য দুসংবাদ। এখন বর্তমান পৃথিবীকে টিকিয়ে রাখতে হয়   অমরত্ব দানকারী  ইনজেকশন ব্যবহার করতে হবে না হয় নিশ্চিত ধ্বংসের দিকে ধাবিত হবে। এ নিয়ে ১ম শ্রেণীর লোকদের মধ্যে উত্থেজনা বিরাজ করছে। এবিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য সবাই উপস্তিত হয়ছে  CRS তাদের এর বর্তমান ও ভবিষ্যৎ বর্ণনা করছে। সবাই মনোযোগ দিয়ে শোনার পর অনেকক্ষণ চুপ থেকে একজন প্রস্তাব দিল ভোট করার জন্য। ভোটে  নিশ্চিত ধ্বংসের দিকে ধাবিত হওয়ার পক্ষে রায় হল। কারণ   অমরত্ব মানুষের জীবন কে একঘেয়েমি করে তুলবে এর চেয়ে বর কথা মানুষের বংশ  বৃদ্ধি নষ্ট করবে যার ফলেও মানুষ এর মৃত্য ঘটবে।  সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে এখন শুধু অপেক্ষা .................................