Saturday, November 5, 2016

এখনকার স্মার্টফোন কেনার আগে যা দেখবেন

  

এখনকার আধুনিক ফিচারযুক্ত স্মার্টফোনমোবাইল ফোন এখন মানুষের নিত্যসঙ্গী। যোগাযোগ, ছবি তোলা, ক্লাউডে তথ্য সংরক্ষণ, ইন্টারনেট ব্রাউজিং ছাড়াও স্মার্টফোন পাওয়ার ব্যাংক হিসেবেও ব্যবহার করা হচ্ছে। বাজারে এখন নানা রকম স্মার্টফোন কিনতে পাওয়া যায় বলে ফোন কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়াটা কঠিন। বাজারে অত্যাধুনিক ফিচারের ফোনগুলো তা আরও কঠিন করে তুলেছে। এ ধরনের দামি স্মার্টফোন কেনার আগে যে বিষয়গুলো মাথায় রাখা উচিত, তা নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে গ্যাজেটস নাউ। দেখে নিন প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো:
তৈরির উপাদান
ফোনের স্থায়িত্ব কেমন হবে, তা মাথায় রাখতে হবে। বাজারে সাধারণত প্লাস্টিক ও ধাতব কাঠামোর ফোন পাবেন। কিছু ফোনে অবশ্য কাচের কোট দেওয়া আছে। যাঁদের হাত থেকে জিনিস প্রায় সময় পড়ে যায়, তাঁরা ধাতব বা প্লাস্টিকের ফোন কিনুন। এ ধরনের ফোনগুলো দুই থেকে তিন ফুট ওপর থেকে পড়লেও টিকে যেতে পারে।

ডিসপ্লে

ফোনের ব্যবহারের ওপর নির্ভর করে ফোনের ডিসপ্লের আকার ও রেজুলেশন ঠিক করতে হবে। যাঁরা ভিডিও স্ট্রিমিং, ছবি সম্পাদনা, ভিডিও বা মুভি ডাউনলোড করেন, তাঁরা অবশ্যই সাড়ে পাঁচ থেকে ছয় ইঞ্চি ডিসপ্লের ফুল এইচডি বা কিউএইচডি ডিসপ্লের ফোন নেবেন। এর চেয়ে বড় মাপের ফোন নিলে বহন করতে সমস্যা হবে। যাঁরা সাধারণত ইন্টারনেট ব্রাউজিং, চ্যাটিং কিংবা ই-মেইল, ফেসবুক চালানোর মতো কাজে স্মার্টফোন ব্যবহার করবেন, তাঁরা পাঁচ থেকে সাড়ে পাঁচ ইঞ্চি মাপের এইচডি বা ফুল এইচডি ডিসপ্লের ফোন নিতে পারেন।

প্রসেসর

অপারেটিং সিস্টেমের সংস্করণ, ইউজার ইন্টারফেস, বোল্টওয়্যারের মতো নানা বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে স্মার্টফোনের প্রসেসিংয়ের ক্ষমতার পার্থক্য হয়। যাঁরা স্মার্টফোনে ছবি বা ভিডিও সম্পাদনা, ডকুমেন্ট সম্পাদনা, ভারী গেম খেলা, ভিডিও স্ট্রিমিং ও স্ক্রিনে একাধিক অ্যাপ ব্যবহার করেন, তাঁরা কোয়ালকমের স্ন্যাপড্রাগন ৬৫২ বা স্ন্যাপড্রাগন ৮২০/৮২১ প্রসেসরের ফোন নিতে পারেন। এতে মাল্টিটাস্কিং-সুবিধা পাওয়া যায়। আর যাঁরা স্মার্টফোন হালকা কাজে ব্যবহার করেন, তাঁরা মিডিয়াটিক প্রসেসর ব্যবহার করতে পারেন।

ক্যামেরা

ফোনে বেশি মেগাপিক্সেল থাকা মানেই কিন্তু সে ফোনের ক্যামেরা ভালো নয়। ক্যামেরার অ্যাপারচার, আইএসও, পিক্সেলের আকার ও অটোফোকাসের মতো বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ। অধিকসংখ্যক পিক্সেল থাকা মানে ছবির আকার বড় হওয়া। অর্থাৎ, ছোট স্ক্রিনে ছবি আরও শার্প হওয়া। উৎসাহী আলোকচিত্রীরা অবশ্যই ক্যামেরার অ্যাপারচারের বিষয়টিকে গুরুত্ব দেবেন। ১২ মেগাপিক্সেল বা ১৬ মেগাপিক্সেলের সেন্সরের সঙ্গে অ্যাপারচার f/2.0 বা তার নিচে হলে কম আলোতেও ভালো ছবি উঠবে। যাঁরা সাধারণ ছবি তোলেন, তাঁরা অবশ্য ৮ বা ১২ মেগাপিক্সেলের সেন্সরের সঙ্গে অ্যাপারচার f/2.0 বা f/2.2 দেখে নিতে পারেন।

ব্যাটারি
ফোন কতটা কাজে লাগান, তার ওপর নির্ভর করে ব্যাটারি ক্ষমতা দেখে নিতে হবে। যাঁরা বেশি বেশি অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করেন, গেম খেলেন বা ভিডিও দেখেন, তাঁরা স্মার্টফোনের ক্ষেত্রে সাড়ে তিন হাজার মিলিঅ্যাম্পিয়ার বা তার চেয়েও বেশি ক্ষমতার ব্যাটারি নেবেন। যাঁরা গড়পড়তা বা হালকা ব্যবহারকারী, তাঁদের জন্য তিন হাজার মিলিঅ্যাম্পিয়ার ব্যাটারিতে কাজ চলে যাবে।

অপারেটিং সিস্টেম
এখনকার স্মার্টফোন কেনার আগে অপারেটিং সিস্টেমের সংস্করণ ও ইউজার ইন্টারফেসের বিষয়টি বিবেচনায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। যেহেতু ইউজার ইন্টাফেস ব্যবহার করে বারবার কাজ করা হয়, তাই এটি যত সহজ ও সাধারণ হয় ততই ভালো। নিখুঁত অ্যান্ড্রয়েডের অভিজ্ঞতা পেতে মটোরোলা, নেক্সাস/পিক্সেল, অ্যান্ড্রয়েড ওয়ানচালিত ডিভাইসগুলো ব্যবহার করা যায়। এ ছাড়া জেনইউআই, এক্সপেরিয়া ইউআই, স্যামসাং টাচউইজ, ইএমইউআইয়ের মতো ইন্টারফেসগুলোও ব্যবহারবান্ধব।

স্টোরেজ
স্মার্টফোনের স্টোরেজ বিবেচনায় ধরলে এর বেশির ভাগ জায়গা দখল করে থাকে অপারেটিং সিস্টেম ও প্রি-ইনস্টল করা অ্যাপগুলো। এ ছাড়া যেসব ফোনে ১৬ জিবি, ৩২ জিবি বা ৬৪ জিবি জায়গার কথা বলা হয়, আসলে তাতে ওই পরিমাণ জায়গা থাকে না। যাঁরা স্মার্টফোনে অল্প অ্যাপ ব্যবহার করেন, তাঁরা ৩১ জিবি স্টোরেজ আছে—এমন স্মার্টফোন নিতে পারেন। যাঁরা বেশি অ্যাপ ব্যবহার করেন, তাঁরা ৬৪ বা ১২৮ জিবি স্টোরেজ আছে—এমন স্মার্টফোন পছন্দ করবেন। ১৬ জিবি স্টোরেজের স্মার্টফোন কিনলে তাতে মাইক্রোএসডি সমর্থন করে কি না, তা দেখে নেবেন।

নিরাপত্তা
এখনকার বেশির ভাগ ফোনেই বাড়তি নিরাপত্তা ফিচার থাকে। যেমন ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা আইরিশ সেনসর। এসব ফিচার কেবল ফোন লক-আনলকের কাজেই নয়, বরং নির্দিষ্ট ফাইলে পাসওয়ার্ড দিতেও ব্যবহার করা যায়। এখনো আইরিশ স্ক্যানারের ফোন ততটা সহজলভ্য নয় বলে অন্তত বাড়তি নিরাপত্তা ফিচার আছে—এমন ফোনগুলো দেখতে পারেন।

স্পিকার
এখনকার ফোন কেনার আগে অবশ্যই অডিওর মান দেখে নেবেন। কারণ, যাঁরা ভিডিও কনফারেন্স বা ভিডিও স্ট্রিমিং করেন, তাঁদের জন্য অডিওর মান ভালো হওয়া দরকার। যাঁরা চলতি পথে বিনোদন পছন্দ করেন, তাঁরা সামনের দিকে স্পিকারযুক্ত ফোন কিনতে পারেন। যাঁরা সাধারণ কাজে ফোন ব্যবহার করবেন, তাঁদের জন্য পেছনে স্পিকারযুক্ত স্মার্টফোন কিনলেও সমস্যা নেই।

হেডফোন জ্যাক
স্মার্টফোনে কোন ধরনের পোর্ট ব্যবহৃত হচ্ছে, তা বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ। এখনকার স্মার্টফোনে মাইক্রো ইউএসবি ও ইউএসবি টাইপ-সি পোর্ট পাওয়া যায়। সুবিধার কথা বিবেচনায় ইউএসবি টাইপ-সি বেছে নেওয়া ঠিক হবে। কারণ, এটি প্লাগ ইন করা সহজ এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের পোর্টের ব্যবহার বাড়বে। 

Tuesday, November 1, 2016

সুয়া উড়িলো উড়িলো

সুয়া উড়িলো উড়িলো জীবেরও জীবন সুয়া উড়িলো রে......... লা-মোকামে ছিলাই সুয়া আনন্দিত মন, ভবে আসি পিঞ্জিরাতে হইলা বন্ধন।। পিঞ্জিরা থাকিয়া কইরলা প্রেমেরও সাধন, (হায় আল্লাহ) এখনো ছাড়িয়া যাইতে না লাগে বেদন।। তুমি নিজ দেশে যাইবে পাখি ফুরিলে মেয়াদ তোমার পিঞ্জিরা রহিবে খালি হইয়া বরবাদ......।। লা-মোকামে যাওরে পাখী করিয়া গমন, (হায়রে) পিঞ্জিরা যে কান্দে তোর প্রেমেরও কারণ।। শোনো শীতালং ফকিরে বলে মনে আলাপন আরে যাওয়ার সময় যাও পাঙ্খি দিয়া দরশন।। সুয়া উড়িলো উড়িলো জীবেরও জীবন সুয়া উড়িলো রে।। ও সুয়া উড়িলো রে।।

Saturday, October 29, 2016

Dillite Nizamuddin - Lyrics

ধন্য ধন্য মেরা, ধন্য ধন্য মেরা, ছিল ছিলা ৷ এলো দিল্লীতে, নিজাম উদ্দীন আউলিয়া ৷৷
এলো দিল্লীতে, নিজাম উদ্দীন আউলিয়া ৷৷ ধন্য ধন্য মেরা, ছিল ছিলা ৷ এলো দিল্লীতে, নিজাম উদ্দীন আউলিয়া ৷৷ এলো দিল্লীতে, নিজাম উদ্দীন আউলিয়া ৷৷ এলো দিল্লীতে, নিজাম উদ্দীন আউলিয়া ৷৷ ... শয়নে স্বপনে দেখি আসিলো এক বুজূর্গান, রাস্তার মাঝে কতো লোকে করিতেছে সন্ধান, করিতেছে সন্ধান। শয়নে স্বপনে দেখি আসিলো এক বুজূর্গান, রাস্তার মাঝে কতো লোকে করিতেছে সন্ধান, করিতেছে সন্ধান। রাস্তা থামায়ে দিলো, রাস্তা থামায়ে দিলো কাফেলা এলো দিল্লীতে, নিজাম উদ্দীন আউলিয়া ৷৷ এলো দিল্লীতে, নিজাম উদ্দীন আউলিয়া ৷৷ ধন্য ধন্য মেরা, ছিল ছিলা ৷ এলো দিল্লীতে, নিজাম উদ্দীন আউলিয়া ৷৷ এলো দিল্লীতে, নিজাম উদ্দীন আউলিয়া ৷৷ ... ানত করেছি আমি বড় পীরের দরবারে, কেমন করে দেবো চাদর দেহলীরো মাজারে, দেহলীরো মাজারে। ানত করেছি আমি বড় পীরের দরবারে, কেমন করে দেবো চাদর দেহলীরো মাজারে, দেহলীরো মাজারে। রাস্তা থামায়ে দিলো, রাস্তা থামায়ে দিলো কাফেলা এলো দিল্লীতে, নিজাম উদ্দীন আউলিয়া ৷৷ এলো দিল্লীতে, নিজাম উদ্দীন আউলিয়া ৷৷ ধন্য ধন্য মেরা, ছিল ছিলা ৷ এলো দিল্লীতে, নিজাম উদ্দীন আউলিয়া ৷৷ এলো দিল্লীতে, নিজাম উদ্দীন আউলিয়া ৷৷ ... হাসানে কয় লালমিয়া ভাই কোন খবর পাইছো নি! বালুর ঘাটে কে আসিলো, ইসরাঈল সাঁই নিজামী ইসরাঈল সাঁই নিজামী। হাসানে কয় লালমিয়া ভাই কোন খবর পাইছো নি! বালুর ঘাটে কে আসিলো, ইসরাঈল সাঁই নিজামী ইসরাঈল সাঁই নিজামী। রাস্তা থামায়ে দিলো, রাস্তা থামায়ে দিলো কাফেলা এলো দিল্লীতে, নিজাম উদ্দীন আউলিয়া ৷৷ এলো দিল্লীতে, নিজাম উদ্দীন আউলিয়া ৷৷ ধন্য ধন্য মেরা, ছিল ছিলা ৷ এলো দিল্লীতে, নিজাম উদ্দীন আউলিয়া ৷৷ এলো দিল্লীতে, নিজাম উদ্দীন আউলিয়া ৷৷ এলো দিল্লীতে, নিজাম উদ্দীন আউলিয়া ৷৷ এলো দিল্লীতে, নিজাম উদ্দীন আউলিয়া ৷৷

Wednesday, June 15, 2016

সৌদিতে মজাদার ফালাফেল

রুটিতে মোড়ানো ফালাফেল।সৌদি আরবে সকালে বা বিকেলের নাশতায় অনেকেই তামিয়া খান। এর আরেক নাম ফালাফেল। সৌদি মুদ্রা দুই বা তিন রিয়ালে একটি ফালাফেল কেনা যায়। দেখতে অনেকটা বলের মতো। ডুবো তেলে কড়া করে ভাজা হয়।
ফালাফেল রুটির মধ্যে দিয়ে স্যান্ডউইচ করে বা এমনিও খাওয়া যায়। ছোলা বা মটরশুঁটি দিয়ে ফালাফেল বানানো যায়। ভাজা বলগুলোর ওপরে সালাদ, সবজি, আচার, সস বা তিলের সস দেওয়া হয়। ফালাফেল মিসরে তামিয়া নামে পরিচিত।
মক্কার মিসফালায় দোকানে প্রতিবছর আমরা ফালাফেল খাই। সেই সূত্রে দোকানের মালিক কবির হোসেন পরিচিত। কবির হোসেন নিজেই ফালাফেল বানান এবং বিক্রি করেন। কবির হোসেনের রেসিপিটি হলো:
উপকরণ 
ছোলার ডাল ৪০০ গ্রাম, কাঁচা মরিচ ৫-৬টা, পেঁয়াজ ১টা, রসুন ৩টা, ধনেপাতা/পার্সলিপাতা/পেঁয়াজপাতা, খাওয়ার সোডা, জিরা, ধনে আর মরিচ গুঁড়া ১ চা-চামচ করে, লবণ পরিমাণমতো, ময়দা ২ চা-চামচ, তিল পরিমাণমতো ও তেল ভাজার জন্য।
প্রণালি গোল করে বানানো ফালাফেল।
খুব ভালো করে ছোলার ডাল সেদ্ধ করে নিন। এবার ছোলার ডাল, পার্সলিপাতা বা ধনেপাতা কুচি, লবণ, জিরা, রসুন কুচি ও খাওয়ার সোডা দিয়ে ব্লেন্ড করে নিন। ময়দা মাখিয়ে ডালের মিশ্রণ দিয়ে ছোট ছোট বল বা চ্যাপটা বড়া বানিয়ে নিন। বড়াগুলো তিল দিয়ে মাখিয়ে নিন। এবার মাঝারি আঁচে তেল গরম করে ভেজে নিন। বাদামি রং হয়ে এলে নামিয়ে ফেলুন।
পরিবেশনা
রুটির মধ্যে ফালাফেল, সস, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, শসা, টমেটো দিয়ে স্যান্ডউইচের মতো করে খেতে পারেন। আবার চাইলে রুটি ছাড়া সস দিয়ে পিঁয়াজুর মতো খেতে পারেন।


Saturday, May 21, 2016

ঝরনা–বাড়ি

ঝরনার ওপরেই তৈরি হয়েছে ফলিং ওয়াটার বাড়ি। ছবি: ভূঁইয়া মুনিরঝরনার ওপরেই তৈরি হয়েছে ফলিং ওয়াটার বাড়ি। ছবি: ভূঁইয়া মুনিরদক্ষিণ পেনসিলভানিয়ার এক গভীর অরণ্যে আলোছায়া আর গাছপালায় ঘেরা পাথুরে এক পাহাড়ের মধ্যে বয়ে যাচ্ছে এক ঝরনা। এই ঝরনার ওপর ঝুলন্তভাবে (ক্যানটিলিভার ধারণা) তৈরি করা এক স্বপ্নের বাড়ি। এ বাড়ির নাম ‘ফলিং ওয়াটার’। যুক্তরাষ্ট্রে অবসরযাপনের উল্লেখযোগ্য এই বাড়ির নকশা করেছেন বিশ্বখ্যাত স্থপতি ফ্র্যাঙ্ক লয়েড রাইট। এডগার জে কফম্যানের জন্য স্থাপত্য নকশা করেছিলেন তিনি। ১৯৩৫ সালে পরিকল্পনা আর ১৯৩৬ থেকে ১৯৩৯ সাল পর্যন্ত চলে এ বাড়ির নির্মাণকাজ। অনেক বছর ধরে কফম্যান পরিবারের সদস্যরা বাড়িটি ব্যবহার করলেও এই শতাব্দীর এই সময়ে এসে আজ এটি হয়ে দাঁড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের স্থাপত্য নিদর্শনগুলোর একটি গৌরবময় উদাহরণ। পর্যটকদের জন্য এটি এখন দর্শনীয় এক স্থান।
স্থাপত্য মিশে গেছে প্রকৃতিতেকিছুদিন আগে গিয়েছিলাম ফলিং ওয়াটার দেখতে। রডোডেনড্রনের ভিড়ে বাড়িটির উদ্দেশে হাঁটা শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই শুনতে পাই দূর পাহাড়ি ঝরনার কুল কুলু মোহনীয় আহ্বান। আশপাশের নানা বন্য পাখির কলরব, ঝরনার ডাক আর নাম না জানা নানা গাছের মধ্যে সর্পিল সরু আলোছায়ামাখা সে পথ পর্যটককে এগিয়ে নিয়ে যেতে থাকে। চলতে চলতে একসময় হঠাৎ করেই প্রকৃতির চিরন্তন শান্ত নিবিড় ফ্রেমে বেশ উঁচু থেকে কোনাকুনিভাবে ধরা পড়ে ‘ফলিং ওয়াটার’ বাড়িটি। জানালা, দরজা, ছাদ, কার্নিশ দেওয়া সাধারণ কোনো বাড়ি নয়। কিছু রঙিন পাথরের ওপর ডানে-বাঁয়ে প্রসারিত হয়ে কংক্রিট নিয়ে পাহাড়ি ঝরনার ওপর গাছপালা সাথি করে তেলচিত্রের মতো বসে আছে বাড়িটি। যেন বনপাহাড়ি ঝরনাস্নাত রাজকন্যা। কোথাও প্রকৃতির এতটুকু নাড়াচাড়া হয়নি, যেন এমনটিই থাকার কথা ছিল।
স্থপতি ফ্র্যাঙ্ক লয়েড রাইট শুরুতেই সচেতন হয়ে পাথুরে পাহাড়ের ডানে-বাঁয়ে কিছু পাথর বের করে এনে তার ওপর সাজিয়ে দিয়েছেন কংক্রিটের প্রসারিত ঝুলন্ত বড় বড় কিছু স্ল্যাব। কংক্রিট, বেলে পাথর (স্যান্ডস্টোন), ইস্পাত, কাজ, পাথুরে দেয়াল, ফ্ল্যাগড স্টোন ইত্যাদি ব্যবহার করা হয়েছে এ বাড়ি নির্মাণে। নানা আকার, আয়তন আর রঙের উপকরণগুলো এমনভাবে ব্যবহার করা হয়েছে যাতে চারপাশের রঙিন পাথর আর প্রকৃতির রঙের সাথে বাড়িটি মিশে যায়।
বাড়ির সামনের ঝরনার পানির ঠিক ওপরে ছোট্ট সেতু। বাড়িটিতে ঢোকামাত্রই প্রকৃতি ছুঁয়ে যাওয়া এক আশ্রয়স্থলের অনুভূতি পাওয়া যায়। নিচু সিলিংসহ টানা কাচের জানালা, লালচে ইস্পাতের টানা রেলিংসহ প্রসারিত স্ল্যাবগুলো খুব সহজেই বাইরের প্রকৃতিকে নিয়ে আসে বাড়ির ভেতরে। পাহাড়ের ধাপগুলোর যথার্থ ব্যবহারে বাড়িটিতে রয়েছে নানা প্রবেশপথ। সামনে-পেছনে উপরে-নিচে প্রতিটি দিকেই নানা ধাপ-উপধাপ পেরিয়ে চলে যাওয়া যায় প্রতিবেশী পাহাড়ের নিবিড় খোলা প্রাঙ্গণে।
গৎবাঁধা নিয়মে ‘ফলিং ওয়াটার’ বাড়িটিকে ঝরনার সামনে বাঁ পাশে না বসিয়ে এভাবে পাহাড় কুদে ঝরনার ঠিক মাঝেই বসিয়ে পাহাড়ি ঝরনার সঙ্গে শহুরে বসবাসের এক অদ্ভুত যোগসূত্র ঘটিয়েছেন স্থপতি—তা সহজেই বোঝা যায়। এ জন্যই বাড়িটি হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘অরগানিক আর্কিটেকচারের’ বিশিষ্ট উদাহরণ। প্রায় শত বছর পেরিয়ে গেছে, তৈরি হয়েছে নানা আধুনিক স্থাপত্য। তবুও ফ্র্যাঙ্ক লয়েড রাইটের এই স্থাপত্যকর্মটি কালজয়ী হয়ে বসে আছে সেই প্রথম সারিতেই।

Wednesday, May 18, 2016

শুধু ১৮+ » নান ও সৈনিক

এক সৈন্য ছুটতে ছুটতে এসে হাজির এক নানের কাছে।
“সিস্টার, আমাকে খুঁজছে এক দুষ্ট পুলিশ। আমাকে বাঁচান!” বললো সে।
“ঈশ্বর তোমার মঙ্গল করুন, বাছা! তা আমি কিভাবে তোমাকে সাহায্য করতে পারি?” খোনা গলায় বললেন নান।
“আমি কি আপনার এই ঢোলা আলখাল্লার নিচে লুকাতে পারি?” জানতে চাইলো সৈন্য।
“নিশ্চয়ই।” সায় দিলেন নান। সৈন্য হামাগুড়ি দিয়ে তাঁর আলখাল্লার নিচে ঢুকে পড়লো।
খানিকক্ষণ বাদেই এক পুলিশ ছুটতে ছুটতে এসে হাজির।
“সিস্টার, এদিক দিয়ে কোন সৈন্যকে যেতে দেখেছেন?”
“হ্যাঁ বাছা। সে তো ওদিকে চলে গেলো ছুটতে ছুটতে।”
পুলিশ ধন্যবাদ জানিয়ে নানের দেখানো দিকে ছুটতে ছুটতে চলে গেলো।
আলখাল্লার নিচ থেকে বেরিয়ে সৈন্য বললো, “সিস্টার, আপনি আমাকে বাঁচালেন। আমি যুদ্ধে যেতে চাই না, কিন্তু ব্যাটারা আমাকে জোর করে পাঠাবেই!”
নান বললেন, “ঠিক আছে বাছা, ঈশ্বর তোমার মঙ্গল করুন।”
সৈন্য বললো, “ইয়ে, সিস্টার, একটা কথা আপনাকে বলা দরকার। আলখাল্লার নিচে বসে দেখলাম কি না। দারুণ একজোড়া ঊরু আপনার!”
নান বললেন, “বাছা, আরেকটু ওপরে খেয়াল করলে দারুণ একজোড়া অন্ডকোষও দেখতে পেতে। আমিও যুদ্ধে যেতে চাই না …।”

শুধু ১৮+ » ফোন নাম্বার লিখে রাখলেন

ছোট্ট বাবুর ক্লাসে নতুন শিক্ষিকা মিস মিলি এসেছেন। তিনি প্রথমেই সকলের সঙ্গে পরিচিত হবেন। কাজেই বাচ্চাদের দিকে তাকিয়ে মিষ্টি করে বললেন, ‘ছোট্ট সুজি, তোমার বাবা মা কী করেন?’
‘আমার বাবা একজন বিজ্ঞানী, আর মা একজন ডাক্তার।’
মিষ্টি হেসে মিস মিলি বললেন, ‘ছোট্ট টুনি, তোমার বাবা মা কী করেন?’
‘আমার বাবা একজন শিক্ষক, আর মা একজন উকিল।’
‘বাহ! ছোট্ট বাবু, তোমার বাবা মা কী করেন?’
বাবু বলল, ‘আমার বাবা মারা গেছেন, আর মা একজন পতিতা।’
মিস মিলি রেগে আগুন হয়ে প্রিন্সিপালের কাছে পাঠালেন বাবুকে। মিনিট পাঁচেক পর ছোট্ট বাবু ফিরে এল।
‘তুমি প্রিন্সিপালকে বলেছ, তুমি আমার সঙ্গে কেমন আচরণ করেছ?’
‘জ্বি মিস।’ বলল বাবু।
‘তিনি কী বললেন?’
‘বললেন, আমাদের সমাজে কোনও কাজই তুচ্ছ নয়। তারপর আমাকে একটা আপেল খেতে দিলেন, আর বাসার ফোন নাম্বার লিখে রাখলেন।’