Saturday, November 1, 2014

শেয়াল ও সিংহ

এক সুন্দর রৌদ্র উজ্জ্বল দিনে একটি সিংহ তার গুহার বাইরে বসে অলসভাবে রৌদ্র পোহাচ্ছিল। এই সময় একটি শিয়াল হাঁটতে হাঁটতে তার সামনে এসে দাঁড়াল।
শেয়ালঃ আমার ঘড়িটা নষ্ট হয়ে গেছে। তুমি কি বলতে পারবে কয়টা বাজে?
সিংহঃ ওহ! আমি তোমার ঘড়িটা ঠিক করে দিতে পারবো!
শেয়ালঃ হমম…এটার যন্ত্রকৌশল খুবই জটিল আর তোমার বিরাট থাবা শুধু এটাকে আরও নষ্টই করবে খালি।
সিংহঃ ওহ না! আমাকে ঘড়িটা দাও । আমি এটা একদম ঠিক করে দিবো।
শেয়ালঃ উদ্ভট সব কথা বার্তা। যেকোনো বোকাই জানে যে বড় থাবা ওয়ালা অলস সিংহ ঘড়ি ঠিক করতে পারে না।
সিংহঃ না, তারা পারে, আমাকে দিয়েই দেখ না।
একথা শুনে শেয়াল তাকে ঘড়িটা দেয়। সিংহ ঘড়িটা নিয়ে ভেতরে চলে যায় এবং কিছুক্ষন পর ঘড়িটা নিয়ে ফিরে আসে। শেয়াল দেখতে পায় ঘড়িটা একদম নিখুঁত ভাবে চলছে। এরপর শেয়াল চলে যায় আর সিংহ আবার মাটিতে শুয়ে রোদ পোহাতে থাকে।
কিছুক্ষন পর একটা নেকড়ে সেখানে এসে হাজির হয়।
নেকড়েঃ আমি কি তোমার সাথে টেলিভিশন দেখতে পারি? আমার টেলিভিশনটা নষ্ট হয়ে গেছে।
সিংহঃ ওহ! আমি তোমার টেলেভিশনটা ঠিক করে দিতে পারবো!
নেকড়েঃ তুমি কি আমাকে বোকা পেয়েছো যে তোমার কথা বিশ্বাস করবো? কোনো মতেই একটা বড় থাবা ওয়ালা অলস সিংহ একটা জটিল টেলিভিশন ঠিক করতে পারবে না।
সিংহঃ চেষ্টা করে দেখতে তো কোনো সমস্যা নেই?
এরপর সিংহ টেলিভিশন নিয়ে গুহার ভেতর চলে যায় এবং কিছুক্ষন পর টেলিভিশনটা নিয়ে আসে। নেকড়ে অবাক হয়ে দেখে যে, টেলিভিশনটা ঠিকমতই চলছে।
গুহার ভেতরের দৃশ্যঃ গুহার এক কোনায় কিছু ছোট কিন্তু খুবই বুদ্ধিমান খরগোশ কিছু জটিল যন্ত্র নিয়ে কাজে ব্যস্ত আর আরেক কোনায় একটি আত্মতুষ্ট সিংহ শুয়ে আছে।
নোট ১: আপনি যদি জানতে চান কোনো ব্যাবস্থাপক(ম্যানেজার) বিখ্যাত কেন, তাহলে তার অধীনে কর্মরত লোকদের কাজের প্রতি দৃষ্টি দেন।
নোট ২: আপনি যদি জানতে চান কেন কোনো অকর্মন্য ব্যক্তির প্রমোশন হয়েছে, তাহলে তার অধীনে কর্মরত কর্মচারীদের কাজের দিকে লক্ষ্য করুন।

বিশ্বসেরা হিমেল

হিমেল দেব। ছবি: খালেদ সরকারআক্ষরিক অর্থেই বিশ্বসেরার স্বীকৃতি পেলেন বাংলাদেশের হিমেল দেব। ২০১৪ সালের ‘কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইনফরমেশন টেকনোলজি’ বিভাগে ‘দ্য আন্ডারগ্র্যাজুয়েট অ্যাওয়ার্ড’ পেলেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সদ্যসাবেক শিক্ষার্থী হিমেল দেব। (বিস্তারিত তথ্য:www.undergraduateawards.com/winners-2014)
সারা বিশ্বের সব স্নাতকপড়ুয়া শিক্ষার্থীর গবেষণা আর সৃজনশীলতার সম্মানজনক পুরস্কার হিসেবে বিবেচিত হয় আয়ারল্যান্ডের ‘দ্য আন্ডারগ্র্যাজুয়েট অ্যাওয়ার্ড’। প্রতিবছর সাহিত্য, অর্থনীতি, কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশলসহ বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে কয়েক হাজার শিক্ষার্থীর জমা দেওয়া অভিনব গবেষণা বা প্রকল্পের ওপর ভিত্তি করে দেওয়া হয় এই পুরস্কার। খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়ের নামকরা অধ্যাপকেরা বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন।
২০১৪ সালের ‘কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইনফরমেশন টেকনোলজি’ বিভাগে সারাবিশ্বের বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের তাবৎ শিক্ষার্থীর মধ্যে এই পুরস্কার পাওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সদ্যসাবেক শিক্ষার্থী হিমেল দেব। স্নাতক শেষ বর্ষে করা হিমেলের থিসিসের বিষয় ছিল User Interaction Based Community Detection in Online Social Networks. 
সামাজিক যোগাযোগের সাইটগুলোতে ছোট ছোট কমিউনিটি শনাক্তকরণ এবং এর তথ্য সংরক্ষণ ও বিশ্লেষণের পদ্ধতি নিয়ে। সম্প্রতি তিনি বুয়েটের কম্পিউটার কৌশল বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগ দিয়েছেন।
আন্ডারগ্র্যাজুয়েট পর্যায়ের একমাত্র গবেষণাধর্মী কাজের স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচ্য হওয়ায় এমআইটি থেকে শুরু করে স্ট্যানফোর্ড, হার্ভার্ড, প্রিন্সটনের মতো বিশ্বসেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নিয়মিত অংশগ্রহণ দেখা যায়। আর সেই সব বিশ্বসেরা শিক্ষার্থীর ভিড়ে বাজিমাত করলেন চট্টগ্রামের পরীক্ষিত দেব ও নীলিমা দেবের সন্তান হিমেল দেব।
কী ছিল তাঁর গবেষণায়? জানতে চাইলে হিমেলের কথায় উঠে আসে, বাস্তবিক সমাজব্যবস্থার মতো অনলাইন সামাজিক যোগাযোগের সাইটগুলোও কিছু ছোট গোষ্ঠীতে বিভক্ত। উদাহরণ হিসেবে ফেসবুকে মানুষের ব্যক্তিগত বন্ধুতালিকার দিকে যদি আলোকপাত করা হয়, তবে দেখা যাবে সেখানে রয়েছে স্কুল-কলেজের বন্ধু থেকে শুরু করে পরিবার কিংবা অফিস সহকর্মীদের মতো ছোট ছোট গোষ্ঠী। অনলাইন সোশ্যাল নেটওয়ার্ক ব্যবহারকারী মানুষগুলোর পারস্পরিক যোগাযোগের বিভিন্ন তথ্য ব্যবহার করে এ ধরনের গোষ্ঠীগুলোকে খুঁজে বের করাকে বলা হয় কমিউনিটি ডিটেকশন, যার প্রয়োগ রয়েছে ব্যবহারকারীদের তথ্য সংরক্ষণ ও বিশ্লেষণের বিভিন্ন ক্ষেত্রে। আর এই কমিউনিটি ডিটেকশনের একটি নতুন পদ্ধতি বাতলে দিয়ে প্রায় ১২ হাজার শব্দের একটি বিস্তারিত পেপার জমা দেওয়ার মাধ্যমে এই খেতাব জিতে নেন হিমেল।
তবে এই গবেষণার পুরস্কার এবারই প্রথম পেলেন না হিমেল। তাঁর কমিউনিটি ডিটেকশন-সংক্রান্ত গবেষণার ফলাফল প্রথম প্রকাশিত হয় এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের বিখ্যাত ডেটাবেইস কনফারেন্স ‘ডাসফা’য়। পরবর্তী সময়ে বিশ্বের অন্যতম সেরা ডেটাবেইস কনফারেন্স ‘সিগমডে’ প্রকাশিত হয় আরও দুটি পোস্টার। আন্তর্জাতিক এই কনফারেন্সগুলোতে যেখানে শুধু কিনা গ্লোবাল রিসার্চাররাই সুযোগ পান, যাঁরা প্রধানত পিএইচডি অথবা এমফিল ডিগ্রির জন্য কাজ করেন, তাঁদের মধ্যে একমাত্র স্নাতকের শিক্ষার্থী হিসেবে অংশ নিয়ে বিশেষভাবে সমাদৃত হন হিমেল।
গবেষণার কাজ কিন্তু এটাই হিমেলের প্রথম নয়। কমিউনিটি ডিটেকশন ছাড়াও হিমেল কাজ করেছেন ক্লাউড কম্পিউটিং এবং ক্রাউডসোর্স সিস্টেমস নিয়ে। এই কাজগুলো প্রকাশিত হয়েছে সিগকাই, সুপার কম্পিউটিংসহ বিভিন্ন খ্যাতনামা কনফারেন্সে। গবেষণার স্বীকৃতিস্বরূপ পেয়েছেন ‘হাইডেলবার্গ লরিয়েট সম্মেলনে’ বিশ্বের ১০০ জন উদীয়মান কম্পিউটার বিজ্ঞান গবেষকদের তালিকায় থাকার সম্মান। ইতিমধ্যে তাঁর ছয়টি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রকাশনা রয়েছে। 
এত অল্প সময়ে এত ভালো গবেষক হয়ে ওঠার পেছনের রহস্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘যেকোনো গবেষণার জন্য কঠোর পরিশ্রমের পাশাপাশি অনেক বেশি ধৈর্যের প্রয়োজন। প্রাথমিক সাফল্যেই সন্তুষ্ট না হয়ে উত্তরোত্তর উন্নয়নের মাধ্যমে গবেষণার মানকে আরও সমৃদ্ধ করাই একজন গবেষকের লক্ষ্য হওয়া উচিত।’ তবে তিনি এই গবেষণাকাজে সহযোগিতার জন্য বিশেষ কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইউনুস আলী ও সহকারী অধ্যাপক ড. তানজিমা হাশেমের প্রতি।
তরুণদের গবেষণার প্রতি উৎসাহ দেওয়ার জন্য গবেষণা তত্ত্বাবধায়ক ড. মোহাম্মদ ইউনুস আলীর সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়ে তিনি জানান, ‘তরুণ গবেষকদের স্বল্পমেয়াদি সফলতার পেছনে না ছুটে কাজের মানের দিকে বেশি নজর দেওয়া উচিত। সাফল্য গবেষণার বাই প্রোডাক্ট, এটাকে কখনোই মূল লক্ষ্য মনে করা উচিত নয়।’

বাংলাদেশের গর্ব হিমেল

সারা বিশ্বে ‘আন্ডারগ্র্যাজুয়েট অ্যাওয়ার্ড’কে অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ একটি পুরস্কার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। স্নাতক পর্যায়ে উদীয়মান গবেষকদের অনুপ্রাণিত করার জন্য সারাবিশ্বের শিক্ষার্থীদের জন্য এই আয়োজন।
আমাদের হিমেল দেবের এই পুরস্কার অর্জন, তাও আবার বিশ্বের বাঘা বাঘা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পেছনে ফেলে নিঃসন্দেহে আমাদের জন্য, বাংলাদেশের জন্য অনেক বড় একটা অর্জন।
আমাদের বড় ব্যর্থতা যে আমাদের শিক্ষার মান এখনো সম্যকভাবে বহির্বিশ্বে আমরা তুলে ধরতে পারিনি। বাংলাদেশে যে আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা সম্ভব এবং তা যে আমাদের স্নাতকের ছাত্ররাই করতে পারে, হিমেলের সাফল্য আমাদের সে বিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে। অবশ্য আমাদের কম্পিউটার কৌশলের শিক্ষার্থীরা শুরু থেকেই আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা করে আসছে এবং ইতিমধ্যেই আমাদের অনেক শিক্ষার্থীদের গবেষণার ফলাফল স্নাতককালেই আন্তর্জাতিক মানের জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। একই সঙ্গে আমাদের ছাত্রদের প্রোগ্রামিং জ্ঞানও যে বিশ্বমানের, তাও আমাদের শিক্ষার্থীরা গত ১৭ বছর ধরে প্রোগ্রামিংয়ের বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপে স্বাক্ষর রেখে চলেছে।
এটা শুধু বুয়েটের ক্ষেত্রেই নয়, অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও তাদের প্রোগ্রামিং মেধার বলেই মাইক্রোসফট থেকে শুরু করে গুগলসহ বিশ্বের খ্যাতনামা আইটি কোম্পানিগুলোর সঙ্গে কাজ করছে এবং কাজ করার সুযোগ অর্জন করছে।
আমি আশা রাখব, হিমেলের এই সাফল্য বাংলাদেশের সব ছাত্রের জন্য ভবিষ্যতে একটি মডেল হিসেবে থাকবে এবং তাদের অনুপ্রাণিত করবে।
মোহাম্মদ কায়কোবাদ
অধ্যাপক, কম্পিউটার বিজ্ঞান ও কৌশল বিভাগ
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)

সফলদের স্বপ্নগাথা : মারিয়া শারাপোভা

মারিয়া শারাপোভা বিশ্বের অন্যতম আলোচিত টেনিস খেলোয়াড়। শারাপোভার জন্ম রাশিয়ায়, ১৯৮৭ সালের ১৯ এপ্রিল। এ যাবৎ তিনি টেনিসের পাঁচটি গ্র্যান্ড স্লাম জয় করেছেন। ২০০৭ সাল থেকে মারিয়া জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচির শুভেচ্ছাদূত হিসেবে কাজ করছেন।
মারিয়া শারাপোভা১৭ বছর বয়সে আমি উইম্বলডন জয় করি। এর কয়েক বছরের মধ্যেই মারাত্মকভাবে কাঁধের ইনজুরিতে পড়ে আমার খেলা বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়। আমার সামনে অনেক কারণ ছিল, যার জন্য টেনিস খেলাই ছেড়ে দেওয়ার কথা তুলেছিল অনেকে। ইচ্ছা করলেই তখন খেলা ছেড়ে দিতে পারতাম, কিন্তু হাল না ছেড়ে আবার কোর্টে নামার সাহস করি।
সত্যিকার অর্থে, আমার বেড়ে ওঠা ছিল ছাই থেকে। আবর্জনা থেকে আমার পরিবার মাথা তুলে দাঁড়ায়। আমার শিকড় কোথায়, সেটা আমি জানি। আমার শুরুর সেই কষ্টের দিনগুলো আমি কখনোই ভুলতে পারব না। আমার বাবা-মা দুজনেই বেলারুশ থেকে আসেন। আমি যখন মায়ের পেটে, তখন চেরনোবিল দুর্যোগ ঘটে। বাবা আর মায়ের কাজ চলে যায়। তাঁদের বাকি জীবনটা অনেক সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে গেছে। আমি তাঁদের মেয়ে। বাবা চার বছর বয়সে আমার হাতে টেনিস র্যাকেট তুলে দেন। বাবাই ছিলেন আমার প্রথম কোচ। স্কুলে পড়াশোনা আর বাড়ির কাজ শেষ করে প্রতিদিন টেনিস অনুশীলনে নামতাম।
আমি কোনো কিছু ধরলে তা ছাড়ি না। আমার বিখ্যাত কোনো বন্ধু ছিল না, যার মাধ্যমে আমি খ্যাতি অর্জন করতে পারি। কিংবা আমি ফ্যাশন মডেল নই, যাকে কোনো লাইফস্টাইল ম্যাগাজিন বিখ্যাত করেছে। মূল কথা হচ্ছে, টেনিসই আমাকে সব দিয়েছে। ইনজুরিতে থাকার সময় যখন ম্যাগাজিন আর পত্রিকায় আমার ছবি দেখতাম, তখন ঠিক থাকতে পারতাম না। হাসপাতালে বসে কোর্টে দৌড়ানোর শব্দ পেতাম। আর দৌড়াব বলেই টেনিস কোর্টে ফিরে আসি।
আমি সব সময় মাঠে থাকতে চাই। প্রতিদিন। জয়-পরাজয় নিয়ে ভাবি না। মাঠে থাকাই সব। খেলা শেষে ঘেমে একাকার হয়ে বাড়ি ফিরতে চাই।
আমার বেড়ে ওঠা ছিল রাশিয়ার সোচি শহরে। যুক্তরাষ্ট্রে সবাইকে সোচি নামের বানান করে বলতে হতো। কেউ জানত না সোচি মানচিত্রের কোথায়। এখন আমার জন্য অনেকেই মানচিত্রে সোচি শহরকে চেনে। এটা অনেক আনন্দের। আমি যখন রাশিয়ার পতাকা নিয়ে কোথাও দাঁড়াই, তখন আমার চেয়ে গর্বিত আর কে হয় বলুন?
খেলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের এক টেনিস একাডেমিতে প্রশিক্ষণ নিতে এসেছিলাম। যার জন্য মায়ের সঙ্গে প্রায় দুই বছর দেখা হয়নি। তখন আমাদের মুঠোফোন ছিল না, কোনো ই-মেইলও ছিল না। একটা কলম আর এক টুকরা কাগজই ছিল আমার সব। মাকে চিঠি লিখতাম। চিঠি যখন মায়ের কাছে যেত, তখন আমার যে অনুভূতি হতো, তা এখনো শিহরিত করে।
টেনিস খেলার একাডেমিতে অন্য মেয়েরা আমাকে নিয়ে হাসত। বেশি ছোট ছিলাম বলে র্যাগিংয়ের শিকার হতাম। আমাকে টিজ করা হতো। তখন আমি হতাশ হয়ে একা একা কাঁদতাম, কিন্তু আমার লক্ষ্য আমি জানতাম। রেগে দেশে ফিরে গেলে আমি হয়তো আজকের আমি হতাম না। সব সময় আশাবাদী হয়ে থাকলে বিপদে পড়লেও নিজেকে নিজে উদ্ধার করা যায়। কষ্ট করে লেগে থাকতে হয় স্বপ্নের পেছনে।
২০০৪ সালে মাত্র ১৭ বছর বয়সে উইম্বলডন জেতা ছিল আমার জন্য বিস্ময়। এটা স্বপ্নের চেয়েও বেশি কিছু ছিল। কখনোই চিন্তা করিনি মাত্র দুই সপ্তাহে পৃথিবীর সেরা সব টেনিস খেলোয়াড়কে হারিয়ে দেব! ফাইনালে আমি সেরেনা উইলিয়ামসকে হারিয়ে দিই। আমি কতটা দুর্ধর্ষ টেনিস খেলোয়াড় হয়ে উঠেছিলাম, তা ভাবলে এখনো গায়ে কাঁটা দেয়। কোনো দিকে মন না দিয়ে টেনিস বলেই আঘাতের পর আঘাত করে গিয়েছি। ফলে ফাইনালে আমার হাতেই ছিল সেরার পদকটি।
বেঁচে থাকার জন্য আমি টেনিস বলকে আঘাত করি, পরিশ্রম করি। আমি সব সময় সবার কাছ থেকে শেখার আগ্রহ নিয়ে বসে থাকি। বাবা আর মায়ের কাছ থেকেই আমি কৌতূহলী হয়ে ওঠার নেশাটি পেয়েছি। আমার কাছে সবচেয়ে বড় আর গুরুত্বের বিষয় হলো, প্রথমে ভালো মানুষ হওয়া, তারপর পেশাদার ক্রীড়াবিদ হতে হবে। এটা সত্যি অনন্য এক চ্যালেঞ্জ।
বেঁচে থাকার জন্য বন্ধুর বিকল্প নেই। আমি সুযোগ পেলেই বন্ধুদের নিয়ে ঘুরতে যাই, গান গাই। টেনিস নিয়ে পড়ে থাকলেও পরিবারকে সময় দিই। যখন খুব হতাশায় ভুগি, তখন নিজেই নিজেকে সান্ত্বনা দিই। নেইলপলিশ হাতে গ্র্যান্ড স্লামের ট্রফিগুলো তোলার স্মৃতি বারবার মনে করে নিজেকে সাহস দিই। আর হতাশার মাত্রা চরমে উঠলে গলা ছেড়ে গান গাই। প্রতিদিন সকালে আমি গান শুনে বাড়ি থেকে বের হই। আমার দুনিয়ার সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হলো মায়ের হাতের রান্না। মায়ের হাতের বৈচিত্র্যময় রান্নার জন্য বাড়ি ফেরার তাড়া থাকে আমার। আমি সময় পেলেই বইয়ের পাতায় হারিয়ে যাই। একই বই কয়েকবার পড়ার বাতিক আছে আমার।
আমাকে কেউ কেউ ‘সুগারপোভা’ নামে ডাকে। অনেক ছোটবেলা থেকে আমি চকলেটের ভক্ত। আমার দাঁতে সব সময় চিনি লেগে থাকত। আমি চাইতাম বড় হয়ে আমি চকলেটের দোকান দেব। বড় হয়ে ব্যবসায়ী হব। সত্যি সত্যি টেনিস খেলার ক্যারিয়ার শেষ করে ব্যবসা করতে নামব।
মানুষের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা সে নিজেই। নিজেকে সাফল্যের চূড়ায় দেখতে চাইলে মানসিকতার পরিবর্তন করতে হবে। যখন যা করো, তা-ই উপভোগ করো। বাড়িতে থাকলে টিভি দেখো, সিনেমা উপভোগ করো। হাসো। কিন্তু যখন কাজ করবে, তখন তাকে উপভোগ করো। নিজের প্রতিভা আর বুদ্ধি দিয়ে কঠিন সব কাজকে আয়ত্তে আনাই সফল ব্যক্তিদের কাজ। নিজের জীবনকে নিজেকেই আকর্ষণীয় করে তুলতে হয়। গণ্ডির মধ্যে না থেকে মাঝেমধ্যে পাগলামি করো। পাগলামি করা শেখো। সামান্য কিছুতেই হাসতে শেখো। হাসিই সবচেয়ে বড় ওষুধ। ঝুঁকি নিতে শেখো। দাঁতে পোকা ধরার ঝুঁকি থাকলেও মাঝেমধ্যে চকলেট খাও। নিজেকে নিয়ে খুশি থাকো!
কিশোর বয়সে যারা টেনিস খেলতে চায়, তাদের জন্য আমার পরামর্শ, লেগে থাকতে হবে। পড়তে হবে, জানতে হবে, খেলতে হবে। সবকিছুর জন্য চাই কঠিন অনুশীলন। ব্যর্থ হলেও লেগে থাকতেই হবে। সফল হলেও লেগে থাকতে হবে।

Monday, October 27, 2014

বিশ্বসেরা ১০ ফাইটার প্লেন ************

১) F-22 Raptor
ব্যবহারকারী দেশঃ USA
ম্যাক্সিমাম স্পীডঃ 1500 mph
মূল্যঃ $142.6 million
২) Eurofighter Typhoon
ব্যবহারকারী দেশঃ UK, Germany, Italy, Spain
ম্যাক্সিমাম স্পীডঃ আনুভুমিক 913.2 mph, উল্লম্বিক 1550 mph
মূল্যঃ $86 million
৩) Sukhoi Su-35
ব্যবহারকারী দেশঃ Russia
ম্যাক্সিমাম স্পীডঃ 1500 mph
মূল্যঃ $65 million
৪) F-15 C/D Eagle
ব্যবহারকারী দেশঃ USA
ম্যাক্সিমাম স্পীডঃ 1650 mph বা তারও বেশি
মূল্যঃ $100 million
৫) Sukhoi Su-27
ব্যবহারকারী দেশঃ Russia
ম্যাক্সিমাম স্পীডঃ 1550 mph
মূল্যঃ $30 million
৬) Mig-35
ব্যবহারকারী দেশঃ Russia
ম্যাক্সিমাম স্পীডঃ 1491 mph বা 2400 km/hr
মূল্যঃ $11 million
৭) F-16 E Fighting Falcon Block 60
ব্যবহারকারী দেশঃ USA
ম্যাক্সিমাম স্পীডঃ উল্লম্বিক 1500 mph, আনুভুমিক 915 mph
মূল্যঃ $100 million
৮) Dassault Rafale
ব্যবহারকারী দেশঃ France
ম্যাক্সিমাম স্পীডঃ 750 knots - 1290 knots
মূল্যঃ $82.3 million
৯) J-10
ব্যবহারকারী দেশঃ People's Republic of China
ম্যাক্সিমাম স্পীডঃ 1.9 mach
মূল্যঃ ???
১০) F-18E/F Super Hornet
ব্যবহারকারী দেশঃ USA
ম্যাক্সিমাম স্পীডঃ 1190 mph বা 1900 km/hr
মূল্যঃ $60.3 million

Wednesday, September 24, 2014

অদ্ভুত খবর

পৃথিবীতে একমাত্র মানুষই হাসতে পারে।
অবশ্য হায়নারাও
হাসির মতো শব্দ করে, কিন্তুহাসির মর্ম শুধু
মানুষই
বুঝে।
☞ ঘোড়ার নাকের ফুটো দুটো শুধু
যে আকারেই বড় তা নয়,
ওদের রয়েছে অসাধারণ ঘ্রাণশক্তি।
☞ আমরা জানি প্রাণীদের
মধ্যে সবচেয়ে বড় নীল তিমি। আর
এই নীল তিমিই প্রাণীদের
মধ্যে সবচেয়ে জোড়ে শব্দ
করতে পারে। ওরা পরস্পরের
মধ্যে ভাববিনিময়ের সময়
যে শিস দেয়, সেটা প্রায় ৫৩০ মাইল দূর
থেকেও শোনা যায়।
☞ ডলফিন একচোখ খোলা রেখে ঘুমায়।
☞ একটি জলহস্তি চাইলে পানিরনিচে ৩০
মিনিট পর্যন্ত দম
বন্ধ করে থাকতে 

ফেসবুকে যেভাবে নিরাপদ থাকবেন

মুখ খুললে বিপদে পড়তে হয় বলে অনেকেই রাগ-ক্ষোভ প্রকাশ করেন ফেসবুকে। কিন্তু ফেসবুক পোস্টের কারণেও অনেক সময় বিপদে পড়তে হতে পারে। কোনো প্রতিষ্ঠানে চাকরি নিয়ে ফেসবুকে অসন্তোষ প্রকাশে সতর্ক না হলে চাকরিও চলে যেতে পারে। ফেসবুক পোস্টের কারণে যাতে চাকরি হারাতে না হয় সেজন্য প্রাইভেসি সেটিংস বিষয়ে কিছু পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের পরামর্শ হচ্ছে ফেসবুকে কোনো কিছু পোস্ট করার আগে প্রাইভেসি সেটিংস থেকে কিছু পরিবর্তন করে নিলে রাগের মাথায় দেওয়া কোনো পোস্টের কারণে বিপদের হাত থেকে বাঁচা যেতে পারে।
আপনার পোস্টটি আপনি যাঁদের দেখাতে চান তারা দেখতে পাচ্ছে কিনা সেটা নিশ্চিত করতে পারেন সহজেই। কীভাবে ব্যবহার করবেন?
আপডেট স্ট্যাটাস বক্স খেয়াল করুন
ফেসবুকে নতুন কোনো মন্তব্য পোস্ট করার আগে সেই পোস্টটি কে কে দেখবে তা ঠিক করে দিতে পারেন স্ট্যাটাস বক্স থেকেই। পোস্ট বাটনটির বামদিকে ড্রপ ডাউন বাটনে ক্লিক করেই এটা করা যায়। এখানে শেয়ারিং অপশন হিসেবে পাবলিক, ফ্রেন্ডস নির্বাচন করে দিতে পারবেন। পাবলিক নির্বাচন করে দিলে আপনার পোস্টটি সবাই দেখবে। যদি শুধু বন্ধুদের দেখাতে চান তবে আপনাকে যাঁরা বন্ধু হিসেবে ফেসবুকে গ্রহণ করেছে তাঁরাই কেবল দেখতে পারবেন। এ ছাড়াও আপনার আগে থেকে তৈরি করা বন্ধু তালিকা বা ফেসবুকের তৈরি স্বয়ংক্রিয় বন্ধু তালিকার মধ্যে শেয়ার করতে পারবেন। এজন্য আপনার উচিত হবে একটি বন্ধু তালিকা তৈরি করে রাখা যাঁদের সঙ্গে আপনি সব কিছুই শেয়ার করতে পারেন। এখানে আপনি যাঁর কাছ থেকে বিপদের সম্ভাবনা তাঁকে আপনার তালিকায় না রাখলেই চলবে।
স্ট্যাটাস আপডেট বক্স বন্ধু তালিকা ব্যবস্থাপনাফেসবুকের তৈরি স্বয়ংক্রিয় বন্ধু তালিকাটিতে স্কুল, কাজ, অবস্থান, যোগাযোগ প্রভৃতি বিষয়গুলো বিবেচনায় ধরা হয়। এই তালিকাটি সম্পাদনা করে নতুন তালিকা তৈরি করা যায়। ফ্রেন্ডস সেটিংস থেকে এই তালিকা সম্পাদনা করা যাবে। নিউজ ফিড বা হোম পেজের বামদিকের একটু নিচে ফ্রেন্ডস শিরোনামে ক্লিক করে এই তালিকা তৈরি করা যাবে।
ফ্রেন্ডস বাটন
একটি তালিকার নামে ক্লিক করলে সেই পেজে যাওয়া যাবে। ম্যানেজ লিস্ট বাটন থেকে এডিট লিস্ট নির্বাচন করে বন্ধু যুক্ত বা তালিকা থেকে বন্ধুকে সরিয়ে ফেলা যাবে। 
লিস্ট পেজ থেকে ম্যানেজ লিস্ট বাটন
এডিট উইন্ডো
বন্ধুর প্রোফাইল পেজ থেকে কোনো একটি নির্দিষ্ট তালিকায় বন্ধু যুক্ত করার উপায়ও রয়েছে। এজন্য ফ্রেন্ডস বাটনে ক্লিক করে একটি ড্রপ ডাউন মেনু পাওয়া যাবে যাতে বন্ধুকে ব্লক করা, নিকটতম বন্ধু নির্বাচন করা বা বন্ধুকে তালিকায় যুক্ত করার অপশন পাওয়া যাবে।
বন্ধুর প্রোফাইল পেজ থেকে তাঁকে বন্ধু হিসেবে নির্বাচন করা
আপনার ফেসবুক পোস্ট কে কে দেখবে?
আগেই জেনেছেন কীভাবে নির্দিষ্ট বন্ধু তালিকায় বা সবার কাছে আপনার সর্বশেষ পোস্ট পৌঁছাতে পারবেন। কিন্তু আপনার পুরোনো পোস্টগুলোর কী হবে? এগুলো ব্যবস্থাপনার জন্যও পদ্ধতি রয়েছে।
‘হু ক্যান সি মাই স্টাফ?’ থেকে আপনি সেটিংস ঠিক করে নিতে পারবেন। এ জন্য ফেসবুক হোম পেজের মেনুতে তির চিহ্নটি ক্লিক করে ড্রপ ডাউন মেনু থেকে সেটিংসে যান। 
সেটিংস পেজ
সেটিংসের জেনারেল অ্যাকাউন্ট সেটিংস স্ক্রিন থেকে আপনি বিভিন্ন ক্যাটাগরি পাবেন। এখানে প্রাইভেসির ক্যাটাগরিটি নির্বাচন করুন। এখানেই আপনি ‘হু ক্যান সি মাই স্টাফ?’ পাবেন। এখান থেকে আপনার টাইম লাইনের পুরোনো পোস্টগুলো কারা দেখতে পারবেন তা নির্বাচন করে দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। 
কারা পোস্ট দেখতে পারবেন প্রাইভেসি থেকে তা নির্বাচন করে দেওয়া যায়
অ্যাক্টিভিটি লগ
প্রাইভেসি সেটিংস অ্যান্ড টুলস মেনু থেকে সব পোস্ট ও আপনাকে ট্যাগ করা বিভিন্ন বিষয়গুলো দেখতে পারবেন। এখান থেকে আপনি অ্যাক্টিভিটি লগে আসতে পারবেন। অবশ্য হোম পেজ সেটিংস মেনু থেকেও এখানে আসা যায়। অ্যাক্টিভিটি লগ থেকে আপনাকে ট্যাগ করা পোস্ট গুলো থেকে নিজেকে সরিয়ে নিতে পারবেন।
অ্যাক্টিভিটি লগ
অবশ্য ম্যানুয়ালিও ট্যাগ দূর করার সুবিধা রয়েছে। আপনাকে ট্যাগ করা পোস্টে ক্লিক করে অপশন থেকে আপনাকে সরিয়ে নিতে বা ট্যাগ করা বিষয়বস্তু সম্পর্কে অভিযোগও জানাতে পারবেন।

Tuesday, September 23, 2014

জেনে নিন কিছু অসাধারন তথ্য********

*কোকাকোলা প্রথমে ছিল সবুজ।
* সকল মহাদেশের নাম যে অক্ষর দিয়ে শুরু হয় সেই অক্ষর দিয়ে শেষ হয়।
* USA-র সব লোকের কমপক্ষে ২টি করে Credit Card আছে।
* মহিলারা পুরুষদের তুলনায় একদিনে প্রায় দ্বিগুণ চোখের পাতা ফেলে।
* কেঊ নিজের শ্বাস রোধ করে নিজেকে হত্যা করতে পারে না।
* যখন কেউ হাঁচি দেয় তখন অন্যরা তাকে বেঁচে থাকো বলে আশীর্বাদ করে। কারণ যখন কেউ হাঁচি দেয় তখন তার হার্...ট এক মিলি সেকেন্ডের জন্য থেমে যায়।
* এক বক্স তাসের ৪টি রাজা ইতিহাসের ৪জন বিখ্যাত রাজার প্রতীক। তারা হলেনঃ রাজা দাউদ, আলেকজান্ডার, জুলিয়াস সিজার এবং শার্লিম্যান।
* কুমির তার জিহ্বা বের করতে বা উঁচিয়ে ধরতে পারে না।
* শামুক একটানা তিন বছর ঘুমাতে পারে।
* প্রজাপতি তাদের পা দিয়ে স্বাদ গ্রহন করে।
* হাতি একমাত্র প্রানী যারা লাফাতে পারে না।
* গত ৪০০০ বছরে নতুন কোন প্রাণী গৃহপালিত করা হয়নি।
* এক ঘন্টার জন্য হেডফোন লাগালে কানে ব্যাকটেরিয়ার পরিমাণ ৭০০ গুন বৃ্দ্ধি পায়।
* হাতের ছাপের মত সকলের জিহ্বার ছাপও ভিন্ন।